ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

চীনের পর পূর্ব শানে রাশিয়ার খনি প্রকল্পে উদ্বেগ

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৬:৪৬ এএম

মিয়ানমারের পূর্ব শান রাজ্যে টাংস্টেন উত্তোলনে রাশিয়ার প্রথম খনি প্রকল্প নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একই এলাকায় আগে থেকেই চীনের একটি বৃহৎ খনি কার্যক্রম চলমান থাকায় অঞ্চলটিতে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মানবাধিকারভিত্তিক একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক সরকার রুশ প্রকল্পটিকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে। থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি পাহাড়ি এলাকায় এই খনি গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে একই পর্বতের দক্ষিণাংশে চীনের টাংস্টেন খনি ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে। সেখানে উৎপাদিত খনিজ চীনপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহযোগিতায় সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাদের মতামত উপেক্ষা করেই খনি প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রুশ জরিপকারী দল এলাকায় গেলে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে। পরে কয়েকটি গ্রামে প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথাও শোনা যায়। চীনা খনির কারণে পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগও উঠেছে। খনির বর্জ্যে ঝরনার পানি দূষিত হয়ে স্থানীয়দের চর্মরোগ দেখা দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বালুমিশ্রিত পলিতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সংকটে পড়েছে গ্রামীণ জনজীবন। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব শান রাজ্যের খনিজসম্পদকে ঘিরে বিদেশি শক্তির প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু উন্নয়নের নামে পরিচালিত এসব প্রকল্পের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। তাদের জীবিকা, পরিবেশ ও নিরাপত্তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।