ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

যুদ্ধ থামার আহ্বানের মাঝেই রক্তাক্ত ইউক্রেন

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম

যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যখন নতুন আশার বার্তা দিচ্ছিল, ঠিক তখনই ইউক্রেনের আকাশে আবারো গর্জে উঠল হামলার শব্দ। রাজধানী কিয়েভে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ রুশ হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাব্দী প্রাচীন এক ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা, আর বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ।  কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিয়েভে আবাসিক এলাকায় হামলায় চারজনের মৃত্যু হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভে আগুন নেভানোর সময় প্রাণ হারান পাঁচ উদ্ধারকর্মী। হামলায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো ঐতিহাসিক ‘ডরমিশন ক্যাথেড্রাল’-এ আগুন লাগা। একাদশ শতকে প্রতিষ্ঠিত এই উপাসনালয় অঞ্চলটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা একে জনগণ ও ঐতিহ্যের ওপর নৃশংস আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে পাল্টা হামলার দাবিও করেছে ইউক্রেন। রাশিয়ার জ্বালানি ও শিল্প স্থাপনা লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলার কথা জানিয়েছে কিয়েভ। রাশিয়াও নিজেদের ভূখ-ে ড্রোন হামলার কথা আংশিক স্বীকার করেছে।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনায় যুদ্ধের অবসান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য পথ নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিটি হামলার সঙ্গে বাড়ছে প্রাণহানি, ধ্বংস হচ্ছে অবকাঠামো, হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের নিরাপত্তাবোধ। শান্তির আলোচনা যত দীর্ঘ হচ্ছে, যুদ্ধের মূল্য তত বেশি গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরাজিত হয়ে উঠছে মানবতা।