ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

যুদ্ধের ঘোষণা হিজবুল্লাহর

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৬:৪১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চুক্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের অস্ত্র সমর্পণের কোনো প্রশ্নই আসে না এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত ও দুজন আহত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অন্যতম শর্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এই শর্তকে লেবাননের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির প্রধান নঈম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, এই চুক্তি অবৈধ, অকার্যকর এবং লেবাননের স্বার্থবিরোধী। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ চলবে এবং কোনো অবস্থাতেই অস্ত্র সমর্পণ করা হবে না। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের চুক্তি ভবিষ্যতে লেবাননের ভূখ-ে ইসরায়েলের প্রভাব আরও শক্তিশালী করবে।

হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি বাস্তবায়নের নামে লেবাননের সেনাবাহিনী যদি হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের চেষ্টা করে, তাহলে দেশে গৃহসংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হবে। চুক্তির পর রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো হিজবুল্লাহ সমর্থক বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা প্রধান সড়ক অবরোধ করেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লেবাননের সেনাবাহিনী অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেয়। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তিটিকে দুই দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।

তার দাবি, এই সমঝোতার মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চুক্তির পরপরই দক্ষিণ লেবাননে হামলা এবং উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান প্রমাণ করছে যে, কাগজে-কলমে সমঝোতা হলেও বাস্তবে শান্তির পথ এখনো অনেক দূরে। লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গনও এ চুক্তি নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।