মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একাধিক শহরের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি। সংগঠনটি বলছে, রাখাইনের ঐতিহাসিক পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আরাকান আর্মি। সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দখলে নেওয়া পাউকতাও শহরের নতুন নাম রাখা হবে বীরট্টানি, যার অর্থ বীরদের আবাস। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে দখলে নেওয়া মিনব্যা শহরের নাম পরিবর্তন করে অঞ্জনপুরা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রাচীনকালে রাখাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেইম্রো নদীর নাম ছিল অঞ্জনা, সেই ইতিহাসের সঙ্গে মিল রেখেই নতুন নাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মংডু, সিত্তওয়েসহ আরও কয়েকটি শহরের নামও পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থ শতক থেকে আঠারো শতক পর্যন্ত ধান্যবতী, বৈশালী, ল্যাংমরো ও ম্রাউক-উÑ এই চারটি শক্তিশালী রাজবংশের অধীনে সমৃদ্ধ ছিল প্রাচীন আরাকান রাজ্য।
সে সময় বহু রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ নগর গড়ে উঠেছিল। প্রায় আড়াই শতাব্দী আগে বার্মিজ শাসনের মাধ্যমে সেই রাজ্যের পতন ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মনে করেন, নতুন নামগুলো প্রাচীন ইতিহাস থেকেই নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, মিনব্যা একসময় একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্গনগর হিসেবে পরিচিত ছিল। এদিকে নাম পরিবর্তনের প্রস্তুতির পাশাপাশি আরাকান আর্মির রাজনৈতিক শাখা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা শহরের বিভিন্ন সড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শহরের নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে আরাকান আর্মি কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তনই নয়, বরং রাখাইনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র পরিচয়কে সামনে এনে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে স্থানীয়দের একাংশের মতে, নাম পরিবর্তনের চেয়ে মানুষের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও কার্যকর শাসন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

