রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ এবার আরও তীব্র রূপ নিয়েছে সমুদ্রপথে। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ওদেসা ও মাইকোলাইভ বন্দরে রাশিয়ার ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় বন্দর, শিল্প স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ইউক্রেন জানিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও ড্রোন তৈরির অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে ওদেসা বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় হামলার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও পাল্টা অভিযানে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার একাধিক জাহাজে হামলার দাবি করেছে। ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর ভাষ্য, তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজসহ মোট ২০টি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।
তাদের আরও দাবি, গত ৯ দিনে শতাধিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য রাশিয়ার রসদ সরবরাহ ব্যাহত করা এবং অধিকৃত ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করা। ইউক্রেনের হামলার পর আজভ সাগরে বিকল্প নৌপথ খুঁজতে শুরু করেছে রাশিয়া। মস্কো জানিয়েছে, প্রয়োজনে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের রুট পরিবর্তন করা হবে, তবে খাদ্য সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এদিকে কিয়েভ সফরে গিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়াতে নতুন সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগর ঘিরে নৌসংঘাত এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।

