ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি। রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে হামলা, হুথি বিদ্রোহীদের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার সানার বিমানবন্দরের অবতরণপথে হামলা চালিয়ে একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দেয়। সরকারের দাবি, ওই বিমানের মাধ্যমে হুথিদের সহায়তা পৌঁছানোর আশঙ্কা ছিল। এর জবাবে হুথি নেতৃত্ব সৌদি আরবকে দায়ী করে পাল্টা হামলার হুমকি দেয় এবং পরে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করে। সৌদি পক্ষ জানিয়েছে, সেই হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।
ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাতের সূচনা এক দশকেরও বেশি আগে। রাজধানী সানা দখলের পর হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু হয়। সৌদি আরবের অভিযোগ, হুথিরা ইরানের সমর্থনপুষ্ট এবং ইয়েমেনে তেহরানের প্রভাব বিস্তারের অন্যতম মাধ্যম। যদিও হুথিরা নিজেদের দেশের বৈধ রাজনৈতিক শক্তি বলে দাবি করে। যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের সংঘর্ষ কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে হোদেইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ অঞ্চলে আবারও সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। এতে দীর্ঘদিনের শান্তি প্রচেষ্টা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লোহিত সাগরের কৌশলগত নৌপথ। বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়। এই পথ অচল হয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এখনই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও পাল্টাপাল্টি হামলা, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অচল শান্তি আলোচনা পরিস্থিতিকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে। ইয়েমেনের সংকটের রাজনৈতিক সমাধান না হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

