অনেক দিন আগে এক দূর দেশের রাজ্যে এক দয়ালু রাজা বাস করতেন। তার একমাত্র কন্যা ছিলÑ অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী এবং সাহসী এক রাজকন্যা। রাজ্যের মানুষ তাকে খুব ভালোবাসত।
কিন্তু সেই সুখের রাজ্যে একদিন নেমে এলো ভয়ংকর বিপদ।
রাজ্যের কাছের পাহাড়ের গুহায় এসে বাসা বাঁধল এক বিশাল ড্রাগন। তার নিঃশ্বাসে আগুন বের হতো, আর সে মাঝে মাঝে গ্রামে নেমে এসে গরু-ছাগল, এমনকি মানুষও তুলে নিয়ে যেত। সবাই আতঙ্কে দিন কাটাতে লাগল।
রাজা অনেক সৈন্য পাঠালেন ড্রাগনকে মারতে, কিন্তু কেউই ফিরে এলো না।
অবশেষে ড্রাগন রাজার কাছে বার্তা পাঠালÑ
‘প্রতি মাসে আমাকে একজন মানুষ দিতে হবে, নইলে আমি পুরো রাজ্য ধ্বংস করে দেব।’
রাজা বাধ্য হয়ে সেই ভয়ংকর শর্ত মেনে নিলেন। প্রতি মাসে লটারির মাধ্যমে একজন মানুষ বেছে নেওয়া হতো, আর তাকে ড্রাগনের কাছে পাঠানো হতো।
এভাবে অনেক মাস কেটে গেল।
একদিন দুর্ভাগ্যক্রমে সেই লটারিতে উঠে এলোÑ রাজকন্যার নাম!
রাজা ভেঙে পড়লেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘আমি আমার মেয়েকে দিতে পারব না!’
কিন্তু রাজ্যের নিয়ম সবার জন্য সমান ছিল। রাজকন্যা নিজেই বললÑ
‘পিতা, যদি আমার কারণে রাজ্য বাঁচে, আমি যেতে প্রস্তুত।’
রাজকন্যাকে পাহাড়ের গুহার সামনে রেখে সবাই ফিরে গেল। সে একা দাঁড়িয়ে রইল, কিন্তু ভয় পেলেও সে সাহস হারাল না।
ঠিক তখনই এক যুবক নাইট সেখানে এসে উপস্থিত হলো। সে দূর দেশ থেকে আসা এক সাহসী যোদ্ধা।
সে বলল,
‘ভয় পেও না, আমি তোমাকে বাঁচাব।’
ড্রাগন গুহা থেকে বেরিয়ে এলো, তার চোখে আগুনের ঝলক। শুরু হলো ভয়ংকর যুদ্ধ। নাইট তার তলোয়ার দিয়ে ড্রাগনের সঙ্গে লড়তে লাগল।
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে নাইট ড্রাগনকে পরাস্ত করল।
রাজকন্যা বেঁচে গেল। সে নাইটকে ধন্যবাদ দিল এবং তাকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে গেল।
রাজা অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তিনি নাইটকে পুরস্কার দিতে চাইলেন। কিন্তু নাইট বিনয়ের সঙ্গে বললÑ
‘আমি শুধু আমার কর্তব্য করেছি।’
কিছুদিন পর জানা গেল, সেই নাইট আসলে এক সাধারণ যুবক, যার সাহস আর হৃদয় ছিল অসাধারণ।
রাজা তার সাহস ও সততায় মুগ্ধ হয়ে রাজকন্যার সঙ্গে তার বিয়ে দিলেন। রাজ্যে আবার শান্তি ফিরে এলো।
ড্রাগনের ভয় শেষ হলো, আর সবাই সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।
অনুবাদ : মিনহাজুর রহমান নয়ন

