ঢাকা বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ব্যাংকঋণ ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৬:৫৮ এএম

অর্থবছরের এখনো এক মাস বাকি থাকলেও ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা ও বিনিয়োগের ধীরগতির কারণে সরকারের রাজস্ব আহরণও প্রত্যাশার তুলনায় কম হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব সংগ্রহ করতে না পারায় আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে অর্থবছরের শেষদিকে উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ বাড়ায় প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিতে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকারের অর্থসংস্থানের প্রয়োজন থাকলেও দেশীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া দীর্ঘ মেয়াদে চাপ তৈরি করতে পারে। তার মতে, সরকারের ঋণগ্রহণ বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ধারণা, জুন মাসে সরকারের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে। ফলে অর্থবছর শেষে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের মোট ঋণ ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়ে আরও শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক এম কে মুজেরীর মতে, অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অতিরিক্ত উপাদান রয়েছে, যা বাদ দিলেও প্রকল্পের মূল লক্ষ্য অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না। এসব ব্যয় কমানো গেলে সরকারের অর্থচাপও কিছুটা কমবে। এদিকে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেই সরকারের ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা, যা সরকারি ঋণনির্ভরতার প্রবণতা আরও স্পষ্ট করেছে।