মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পূর্বাঞ্চলীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৫টা (গালফ স্ট্যান্ডার্ড সময় বুধবার রাত ১টা) থেকে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালানো হয়।
হরমুজ প্রণালির কাছে টহলরত অবস্থায় মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করার ঘটনার জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি সেন্টকমের ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে বলেন, একটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করা হয়েছে।
তবে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এটি যৌথ জলসীমায় কোনো দুর্ঘটনা বা ভুলের ফল হতে পারে।
এদিকে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে উদ্ধৃত করে ওপেন সোর্স সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, ভূপাতিত হেলিকপ্টারের দুই পাইলট প্রাণে বেঁচে যান এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পানিতে থাকার পর তাদের উদ্ধার করা হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি চালকবিহীন জলযানের মাধ্যমে এ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়, যা সমুদ্রে প্রথম ড্রোন-সহায়তায় উদ্ধার অভিযানের উদাহরণ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার জবাবে সর্বাধিনায়কের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক হামলা শুরু হয়েছে।
তবে পেন্টাগন এখনো হামলার লক্ষ্যবস্তু বা অভিযানের পরিসর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, মার্কিন হামলার বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। ফলে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক সূচক মঙ্গলবার নিম্নমুখী হয়ে বন্ধ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে, আর তেলের বাজারে অস্থিরতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা বাড়ছে।

