× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০২:০৪ এএম

সমঝোতা না হলে আসন উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০২:০৪ এএম

রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও তাদের শরিক ১১ দলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চললেও চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় গতকাল তাদের পূর্ব ঘোষিত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করে। এ ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং আল্লামা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচনি আসন সমঝোতায় থাকবে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি বিবেচনায়, সমঝোতা না হলে মোট আসনের অন্তত ৫ থেকে ১০ শতাংশ উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তও আসতে পারে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্বাচনি মাঠে নিজেদের শক্তির জানান দিতে জোটবদ্ধ হলেও এখন আসন সংখ্যা নিয়েই শুরু হয়েছে মূল দ্বন্দ্ব। জামায়াতে ইসলামী যেখানে বড় ভাই সুলভ আচরণ করে আসন বণ্টনের নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেখানে শরিক দলগুলো তাদের প্রাপ্য সম্মান ও আসন পাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান :

চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন এই দলটি শুরু থেকেই শতাধিক আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। আলোচনার টেবিলে তারা নমনীয় হয়ে শেষ পর্যন্ত ৫০টির বেশি আসনের দাবি জানায়। কিন্তু জামায়াত তাদের মাত্র ৪০টি আসন ছাড় দিতে চায়। এই ১০-১৫টি আসনের ব্যবধানই এখন জোটের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস :

আল্লামা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৫ থেকে ৩০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত ২০টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে মামুনুল হক জানিয়েছেন, সমঝোতা না হলে তারা নির্দিষ্ট আসনগুলোতে প্রার্থী উন্মুক্ত করে দেবেন। রাজধানীর পুরানা পল্টন ও রামপুরার একটি মাদ্রাসায় ইসলামী আন্দোলনের নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে তৃণমূলের নেতারা জামায়াতের ‘একক সিদ্ধান্ত’ গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

১১ দলের আসন সমাঝোতার বিষয়ে জামায়াতের সহকারী মহাসচিব এহসানুল মাহবুব জুবায়ের রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘জোটের সবার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। জামায়াত আমিরসহ দলগুলোর শীর্ষ নেতারা আজ যেকোনো সময় বৈঠকে বসতে পারেন। সেখানে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা ঘোষণা করা হবে।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আসন সমাঝোতার বিষয়ে যদি এমন হয় ২৬০ থেকে ২৭০টি আসনের বিষয়ে আমরা চূড়ান্ত পৌঁছাতে পারলাম। কিন্তু ২০, ৩০ কিংবা ৪০টি আসনে পারলাম না। সে ক্ষেত্রে ওই আসনগুলো উন্মুক্ত রাখা হতে পারে। তবে তিনি জানান, কিছু আসন উন্মুক্ত রাখা হলেও ইসলামী দলগুলোর ভোট ‘এক বাক্সে’ আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’  তিনি আরও বলেন, ‘যদি কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয়, তবে যে দল চাইবে, তারা প্রার্থী দেবে। প্রচার শুরুর সপ্তাহখানেক পর সব প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাই করা হবে। এরপর যিনি এগিয়ে থাকবেন, তাকে রেখে অন্যরা সরে দাঁড়াবেন।’

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ আসনে আমরা সমঝোতায় পৌঁছেছি। বাকি পাঁচ কিংবা দশ শতাংশ আসন উন্মুক্ত রাখতে হতে পারে। কারণ, কোথাও দুটি, কোথাও তিনটি দল একই আসন চাইছে। এ ছাড়া বিকল্প নেই। তবে জোট অটুট থাকবেÑ এটা নিশ্চিত।’

এদিকে, আসন বণ্টন প্রক্রিয়ায় জামায়াতের ‘কর্তৃত্বমূলক ভূমিকা’ নিয়ে জোটের কয়েকজন শীর্ষ নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সবাই বলছে এটি ১১-দলীয় জোট। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা একবারও ১১ দলের যৌথ বৈঠক হতে দেখিনি। এতে আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এনসিপি ও এবি পার্টি মিলে ৫০টি আসন চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৫টি এনসিপির জন্য এবং ১৫টি এবি পার্টির জন্য। পরে দেখি, তারা (জামায়াত) আলাদাভাবে এনসিপি ও আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। এতে আমরা আমাদের অসন্তোষ জানাই।

এদিকে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামি ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) একযোগে আন্দোলন শুরু করে। তাদের অন্যতম দাবি ছিলÑ পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজন এবং নির্বাচনের আগে গণভোট। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মকে নির্বাচনি জোটে রূপ দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়ের দুদিন আগে, ২৮ ডিসেম্বর এনসিপি ও এলডিপি জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। পরদিন যোগ দেয় এবি পার্টি। যদিও জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৪০টি আসনে দুই দলের প্রার্থীরা মুখোমুখি অবস্থানেও আছে।

সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রায় ৪৫টি আসন পেতে পারে, যা তাদের ১৫০ আসনের দাবির তুলনায় অনেক কম। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা ও চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করিম এ নিয়ে এখনো অসন্তুষ্ট। অন্য দলগুলোর মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৫০টি আসন চাইলেও সম্ভাব্য বরাদ্দ ১৩ থেকে ১৫টির মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। একইভাবে, ২৫টির বেশি আসন চাওয়া খেলাফত মজলিস পাচ্ছে পাঁচ কিংবা সাতটি আসন। নেজামি ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন দুটি করে আসন নিশ্চিত করেছে বলে জানা গেছে। বিডিপি ও জাগপা একটি করে আসন পেতে পারে। একইসাথে নতুন শরিক এনসিপি প্রায় ৫০টি আসন দাবি করেছিল। জামায়াতের সঙ্গে ৩০টি আসন নিয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হলেও সেটিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!