ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মাঠে গড়াল ভোটযুদ্ধ

স্বপ্না চক্রবর্তী
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৬:২১ এএম
রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ক্যালেন্ডারের পাতায় শেষ হতে চলেছে জানুয়ারি মাস। আর মাত্র তিন সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ভোটের মাঠের মূল যুদ্ধ। গতকাল বুধবার মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়ে গেছে প্রার্থীদের ভোটের প্রচারণা কার্যক্রম। এরই মধ্যে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল এই প্রার্থীদের সবাই বরাদ্দ পেয়েছেন নিজ নিজ প্রতীক। প্রতীক পেয়েই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট চাওয়া শুরু করেছেন প্রার্থীরা।

এদিকে শুরু হয়ে গেছে ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজও। একদিকে প্রার্থীরা যেমন নির্বাচন কমিশনের কাছে চাইছেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, তেমনি নির্বাচন কমিশনও প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্বাচনি আচরণবিধি মানার প্রত্যাশা করছে। একই দিনে সংসদ ভোট ও গণভোট হওয়ায় এই নির্বাচন অন্য যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় চ্যালেঞ্জিং দাবি করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোস্টাল ব্যালটও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে একটি সুষ্ঠু, উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা সারা দেশের মানুষের।

দেশের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচন আর কখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। দেশের ইতিহাসে গণঅভ্যুত্থানে কোনো সরকারের পদত্যাগের নজির না থাকায় আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষের পাশাপাশি উৎসাহ বিরাজ করছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও। রাজধানী থেকে তৃণমূলÑ সর্বত্র বিরাজ করছে ভোটের আবহ। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৪২২টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে দাখিল করেছিলেন ২ হাজার ৫৮৫ জন প্রার্থী। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৫৮ জনকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা এবং ৭২৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬৩৯ জন ইসিতে আপিল করেন। আপিল নিষ্পত্তি শেষে ৪৩১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। সব প্রক্রিয়া শেষে ৩০৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ালে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৬৭। শুধু তাই নয়, বিগত এক দশকের নির্বাচনে যেসব দল অংশ নেয়নি, তারাও এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের নিয়ে গঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) প্রায় অর্ধশত রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। প্রার্থীদের অধিকাংশই বিভিন্ন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত। রয়েছেন শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরাই মূলত ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন এবং জুলাই সনদের গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই নির্বাচনকে বিশেষ বলে আখ্যায়িত করছেন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকবেন বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য। এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র। দুটি ব্যালটে ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা না বাড়লেও ভোটকক্ষ বা বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে তা ২ লাখেরও বেশি হতে পারে।

ইসির সর্বশেষ তথ্যমতে, এবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন যুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১ হাজার ২৩৪ জন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন। পুরুষ ভোটার দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন। আর নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন। এবারের ভোটে অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছে পোস্টাল ব্যালট। গত ১৮ নভেম্বর পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় চলতি মাসের ৫ তারিখে। ১৬ দিনে বিশ্বের ৮১টি দেশে অবস্থানরত ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬৯ জন প্রবাসীর কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে প্রকাশিত হওয়া একটি ভিডিওর কারণে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে তৈরি হয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানান সমালোচনা। তবে তা কাটিয়ে ওঠার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাহরাইনের ক্ষেত্রে ১৬০টি ব্যালট একটি ডেলিভারি পয়েন্টে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে প্রবাসী ভাইয়েরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। আমার পাশে থাকে, আমি ওরটা পৌঁছে দিচ্ছিÑ ব্যাপারটা এরকম। ইতোমধ্যে বাহরাইন দূতাবাস থেকে আমাদের এ বিষয়ে একটি ব্যখ্যা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি নির্বাচনের আগে পোস্টাল ব্যালটের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়ে যাবে।’

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের কানায় কানায় জমে উঠেছে প্রচারণা পর্ব। ফেনী-৩ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া আব্দুল আউয়াল মিন্টু রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বছরের শুরু থেকেই এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছি। বিশেষ করে তপশিল ঘোষণার পর এলাকা ছেড়ে ঢাকায় যাইনি। সব মিলিয়ে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। যেখানে ভোট চাইতে যাচ্ছি, সেখানেই ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছেন। কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। কেউ দুই হাত তুলে দোয়া করছেন। ফ্যাসিবাদি চক্র এখনো সক্রিয় থাকলেও স্বতঃস্ফূর্তভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি। এ ব্যাপারে সরকারেরও যথেষ্ট আন্তরিকতা রয়েছে। তাই আমরা আশাবাদী।’ এই প্রতিবেদন লেখার সময়েও গনসংযোগ চালাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন। সবাই যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে পাওে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।’

নির্বাচনের নিরাপত্তার বিষয়ে কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘দেশে খুব শিগগির যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে। আশা করছি আর কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটবে না। নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে। দেশ এখন নির্বাচনমুখী। তাই কেউ আর চোরাগোপ্তা হামলার অপেক্ষায় থাকবে না বলেই আমরা মনে করি। তা-ও যদি কারো কাছে এমন কোনো তথ্য থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সব প্রার্থীর প্রতিও আমাদের আহ্বান থাকবে, তারা যেন নির্বাচনের আচরণবিধি মেনেই প্রচারণার কাজ চালায়। কারণ একজন প্রার্থী যদি আইন ভঙ্গ করে প্রচারণা করেন, তাহলে আরেকজন প্রার্থীও একই কাজ করবেন। এ ক্ষেত্রে ইসিকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলেই একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষা নির্বাচন সম্ভব। ইসি এ লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করছে।’

এদিকে ইসি সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললেও নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়নি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ অত্যন্ত আশাবাদী যে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে। আমরা সিইসিকে বলেছি, দল-মতনির্বিশেষে সবাই যেন পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে বডি ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিমধ্যে ৩ হাজার ড্রোন ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ‎নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই নেতা আরও বলেন, ‘কিছু বড় দলের প্রধান ও দলের পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যা গণমাধ্যমেও আসছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতেই স্পষ্ট হয় যে, নির্বাচনে এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি।’

একই অভিযোগ অন্যতম বড় দল জামায়াতে ইসলামীরও। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা থাকলেও একটি দলের প্রধানকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে একটি দল চাপ দিচ্ছে। আমরা বলতে চাই, কোনো চাপের মাধ্যমে নয়, আইন অনুসারে কোনো দলের প্রার্থী অবৈধ হলে তা বাতিল করতে হবে। অনেক ডিসি ও এসপি পক্ষপাতিত্ব করছেন। ইসিকে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।’

বিএনপিকে নিয়ে তাহের বলেন, ‘তারা মনে করেছিল, লন্ডন থেকে তাদের লিডার আসলেই সব পরিবর্তন হবে, কিন্তু তা হয়নি।’

তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পক্ষ-বিপক্ষ নানা মত থাকবেই। কিন্তু ভোট উৎসবমুখর হবে বলেই আশা সাধারণ মানুষের। রাজধানীর মহাখালী এলাকার বাসিন্দা আদিত্য সুমন বলেন, ‘বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে যাইনি। এ বছর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশা করছি। আর তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরিবারের সবাই মিলে ভোট দিতে যাব।’ একই কথা বলেন মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা রুহান ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে গিয়ে দেখেছি, আমার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। এবার এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই বলেই মনে হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চাই পরিবারের সবাই।’

রাজধানীর বাইরে ভোট নিয়ে কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও উৎসাহের কমতি নেই সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। মুঠোফোনে একপ্রকার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সিলেটের আম্বরখানা এলাকার বাসিন্দা শিফা আক্তার বলেন, ‘এবার আমাদের বাড়তি পাওনা সিলেটের জামাই দেশে ফিরেছেন। যে দলই ক্ষমতায় আসুক, বিএনপিকে ভোট দেব শুধু সিলেটের জামাইকে জেতাতে। আর বগুড়ার কাটনারপার এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমানের উচ্ছ্বাস যেনো বাঁধভাঙা। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘বগুড়ার বাসিন্দা হওয়া যেন গত ১৭ বছর পাপ ছিল। একবারের জন্যও ভোট দিতে পারিনি। এ বছর সপরিবারে ভোট দেব পছন্দের প্রার্থীকে।’

তবে ভীতিও কাজ করছে কিছু কিছু এলাকায়। বিশেষ করে পল্লি অঞ্চলের সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিরাজ করছে মব আতঙ্ক। হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ মুঠোফোনে বলেন, ‘আমরা হিন্দু। এলাকার মানুষ হাজার বললেও বিশ^াস করবে না আমরা নৌকার সাপোর্টার না। এমন অবস্থায় যদি ভোট দিতে গিয়ে মানুষের মারধরের শিকার হতে হয়, তাহলে কে ঠেকাবে? তারচেয়ে জীবন বাঁচাতে ঘরে থাকাই ভালো।’ একই রকম আতঙ্কিত রাজশাহীর তিতলি সরকারও। তিনি বলেন, ‘একদল মানুষ মনে কওে, হিন্দু মানেই আওয়ামী লীগ, নৌকা। ভোট দিতে গেলে যদি কেউ পিটিয়ে মেরে ফেলে, এর দায় কে নেবে? আবার ভোট দিতে না গেলেও তারা অবিশ^াস করবে। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই ভোট দিতে যাব।’

চলতি মাসের ১১ তারিখ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের রেকর্ডকৃত ভাষণ জাতির উদ্দেশে প্রচার করা হয়। এ সময় সিইসি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২১ নভেম্বর এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। আগামী নির্বাচনই হবে এই কমিশনের অধীনে প্রথম কোনো নির্বাচন। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হচ্ছে। দুটি ভোটের সময় ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ইসি। এর বাইরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভাবিয়ে তুলছে জানিয়ে নির্বাচন বিশ্লেষক ড. আব্দুল আলীম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে ও পরে প্রার্থীদের ওপরে হামলা, বিশেষ করে ওসমান হাদীর ওপরে হামলা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে অশনি সংকেত। এই হামলার ঘটনায় প্রার্থী, কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের একজন প্রার্থী নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই ঘটনাগুলো নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবাইকে একটি ভয়ার্ত পরিবেশের মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা জানান দিচ্ছে। তবে নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনের দ্রুত ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে নির্বাচনি সংঘাত-সহিংতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। জাতি এখন মুখিয়ে আছে একটি উৎসবমুখর ভোট দেখার অপেক্ষায়।’