ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়ন

সীমিত পরিসরে শুরু হলেও হবে সার্বজনীন

হাসান আরিফ
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০১:৪৬ এএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই সীমিত পরিসরে কর্মসূচিটি চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮ বা ১০টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতি উপজেলায় ১০০০ পরিবারকে প্রাথমিকভাবে এই কার্ড দেওয়া হবে। এ জন্য ব্যয় হবে ৮ থেক ১০ কোটি টাকা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ২৪ ফেব্রুয়ারির আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ওয়ার্ড নির্বাচন করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে আপাতত ১০০০টি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে। সে হিসাবে প্রথম ধাপে মোট ১০টি উপজেলায় ১০টি ওয়ার্ডে ১০ হাজার পরিবার এই কার্ডের আওতায় আসবে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ১০টি উপজেলা হলে ১০ কোটি টাকা আর ৮টি উপজেলা হলে ৮ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনেই নির্ধারণ হবে বাস্তব কাঠামো : মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে, তাতে উপকারভোগী বাছাইয়ের মানদ-, প্রশাসনিক কাঠামো, তদারকি পদ্ধতি, অর্থ ব্যয়ের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে হবে। বিশেষ করে, কারা এই কার্ড পাবেনÑ অতিদরিদ্র, নি¤œআয়ের শ্রমজীবী পরিবার, ভাতা-বঞ্চিত প্রবীণ, বিধবা বা প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবারÑ এসব সূচক নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জন্য এই হিসাব করা হয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে তা এক লাখে উন্নীত করা হবে। পরে আরও বাড়বে।

কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু কর্মসূচিটি ঈদের আগে চালুর লক্ষ্য রয়েছে, তাই উপকারভোগী তালিকা প্রণয়ন এবং কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তবে তাড়াহুড়োর কারণে যাতে অনিয়ম বা পক্ষপাতের অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা :

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনায় উঠে এসেছে, বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে একই পরিবার একাধিক সুবিধা পাচ্ছে, আবার কেউ কেউ একেবারেই বঞ্চিত থাকছেন। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে একটি সমন্বিত পরিবারভিত্তিক ডেটাবেইস গড়ে তুলে সুবিধা বণ্টনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা, ভর্তুকি মূল্য সুবিধা বা নগদ সহায়তাÑ কোন পদ্ধতিতে সুবিধা দেওয়া হবে, তা-ও প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে। ফলে ২৪ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে শুরু করা হলে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা সহজ হবে। তবে সঠিক লক্ষ্যভিত্তিক নির্বাচন ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে ব্যয়ের সাশ্রয় ও কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

ঈদ সামনে রেখে সময়সীমার চাপ :

ঈদের আগে বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকায় প্রশাসনিকভাবে সময়সীমার চাপ রয়েছে। মাঠপর্যায়ে তালিকা প্রস্তুত, যাচাই, অনুমোদন এবং কার্ড বিতরণÑ সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমরা চাই দ্রুত কাজ শেষ হোক, তবে নিয়মনীতি মেনে এবং স্বচ্ছভাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা পড়ে এবং তা অনুমোদিত হয়, তাহলে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম দৃশ্যমান হতে পারে। সফল বাস্তবায়ন হলে পরবর্তী অর্থবছরে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ হবে।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগটি কেবল ঈদকেন্দ্রিক সাময়িক সহায়তা নয়; বরং সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে পরিবারকেন্দ্রিক ও তথ্যভিত্তিক রূপ দেওয়ার একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর ২৪ ফেব্রুয়ারির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের দিকেÑ সেই প্রতিবেদনের সুপারিশই নির্ধারণ করবে এই উদ্যোগের কাঠামো, পরিসর ও ভবিষ্যৎ।