ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সোনালি মুরগির দামে আগুন, বোতলজাত সয়াবিনে সংকট

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জ্বালানির সংকটে ঢাকায় খুচরা পর্যায়ে বাড়তে শুরু করেছে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম। একদিকে দরজায় কড়া নাড়ছে নববর্ষ, অন্যদিকে জ¦ালানি সাশ্রয়ে সন্ধ্যায় বন্ধ হচ্ছে বিপণিবিতানগুলো। সব মিলে জ¦ালানির প্রভাব পড়েছে ভোগ্যপণ্যে। তবে এটিকে অজুহাত বলছেন ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। তারা বলছেন, বর্তমানে কাঁচাবাজারসহ নিত্যপণ্যের বাজারে দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছে নি¤œ ও মধ্যবিত্তের মানুষ। 

ঢাকায় ভোক্তা পর্যায়ে ইলিশ, মুরগি, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। তবে দাম কমেছে দেশি আলু, পেঁয়াজ ও তরমুজের। বিক্রেতারা জানান, প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম। কোম্পানিগুলো ডিলার পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে তিন থেকে চার টাকা করে বাড়িয়েছে। এতে ভোক্তাদের খাবারের তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, গ্রীষ্মকালীন সবজি এখনো বাজারে না আসায় দাম কমছে না। তাই সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। তবে বৈশাখের মধ্যবর্তী সময়ে ঢাকার বাজারগুলোতে সবজি আসা শুরু করলে দাম কমবে। এদিকে নববর্ষ ঘিরে প্রতি কেজি ইলিশ আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহের সংকটে এই মূল্যবৃদ্ধি বলে জানিয়েছেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা।

তারা জানিয়েছেন, বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়ে রেকর্ড করেছে সোনালি মুরগি। এক বছর আগের সোনালি মুরগির কেজি ছিল ২৩০-২৬০ টাকা। এখন বাজারে প্রতি কেজি ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরে এক কেজি রুই মাছ কেনা যেত ৩০০-৩৫০ টাকায়। এখন ৩৫০ টাকার নিচে রুই মাছ নেই, একটু বড় হলে দাম ৪০০ টাকার আশপাশে।

তবে চালের দাম ও সরবরাহ সঠিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে জ¦ালানি সংকটে পরিবহন ভাড়াকে দায়ি করেছেন তারা।

কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের চাল ব্যবসায়ী তরফদার আব্দুল আজিজ বলেন, ‘সরবরাহ ঠিক থাকায় মোটা চালের দাম কম বা বেশি হয়নি। কিন্তু চিকন চালের দাম সরবরাহের ওপর কিছুটা নির্ভর করে বাড়ে-কমে।’

কারওয়ান বাজারে ছুটির দিনে শুক্রবার আব্দুর রহমান নামের ক্রেতা বলেন, ‘সোনালি মুরগির দাম বেশি বেড়েছে। এত দামে আগে কখনো কিনিনি। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকায়।’

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে মুরগির ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘সোনালি মুরগি পালন কমিয়েছেন খামারি মালিক। তা ছাড়া রোগের আক্রমণেও এই মুরগি বেশি মারা যায়, যার কারণে সোনালি মুরগি সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। তাই দাম বেড়েছে।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় তেলাপিয়া, পাঙাশ ও চিংড়ি মাছের দাম এখন বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে দাম বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের। বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও চড়া। সাধারণত সীমিত আয়ের মানুষ খরচ পোষাতে এসব মাছ, মুরগি ও সবজি বেশি কেনেন। কিন্তু এসব নিত্যসামগ্রীর দাম বাড়লেও মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি। ফলে খরচ বাঁচাতে নানা জায়গায় কাটছাঁট করছেন তারা।

গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৪০০ থেকে ৪৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সপ্তাহখানেক ধরে সোনালি মুরগির এমন চড়া দাম রয়েছে। একপর্যায়ে ৪৫০ টাকা দামও উঠেছিল। গত এক মাসের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় দেড়শ টাকা। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে ২০ টাকা বেশি রয়েছে। তবে ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

বাজারে আকারভেদে প্রতি কেজি তেলাপিয়া, কই ও পাঙাশ মাছ ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের চাষের চিংড়ির কেজি ৮০০ টাকা। আর চাষের শিং, পাবদা ও পোয়া মাছ বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে।

কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বোতলজাত সয়াবিনের সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে এক কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগেও কেজিতে ৫ টাকা কম ছিল।

ঢাকার মজবাজারে থাকা গৃহবধূ আয়শা খাতুন বলেন, ‘দুই দিন ঘুরে পাঁচ লিটার তেলের বোতল পেলাম। আগের চেয়ে এখন ১০ টাকা বেশি দামে ৯৫৫ টাকায় কিনেছি। অনেক কিছুর দাম বেড়েছে, যার কারণে খাদ্যের তালিকায় অনেক কিছু কাটছাঁট করতে হচ্ছে।’

বাজারে প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বরবটি ১০০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, শিম ৮০ টাকা এবং পটোল প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ঢ্যাঁড়শ প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শজিনা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।