ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিএনপির সরকার গঠনের দুই মাস

পণ্যের সহনীয় দামে ভোক্তারা খুশি

শাহীনুর ইসলাম শানু
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৪:২৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের পর রমজান মাসে ভোগ্যপণের দাম নিয়ে বেড়েছিল অস্থিরতা। ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে পণ্যমূল্যের চাপে নাভিশ^াস ওঠে ভোক্তাদের। সরকার গঠনের দুই মাসের ব্যবধানে বাজারে নিত্যপণ্যের উত্তাপ তুলনামূলক অনেকটা কমেছে। সেই সিন্ডিকেট এখন নিষ্ক্রিয়।

অন্যদিকে, ১০ দিনের ব্যবধানে কিছু খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তি। দেশে জ¦ালানি সরবরাহ সংকটে সব ধরনের সেবাপণ্যের দাম ও ভোগান্তি বেড়েছে। তবে রমজান মাসের সরবরাহ সংকটের অজুহাতে দ্রব্যমূল্যের দাম সরকারের দুই মাসে অনেক কমেছে। এই সময়ে খাদ্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছিল মুরগি ও ডিমের; যা সাধারণ মানুষের প্রোটিনের শেষ আশ্রয়স্থল।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পণ্যের দাম নিয়ে একটি সিন্ডিকেট বেশ সরব ছিল। ভোজ্যতেল সয়াবিনের সরবরাহে ঘটতি ছিল তীব্র। চালের বাজার ছিল অস্থিতিশীল। চিনি এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ এবং দামে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ছিল না। যার কারণে বিদেশে থেকে এসব পণ্য আমদানিতে শুল্ক সুবিধা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠনের আগে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের টানা কর্মবিরতির কারণে বহির্নোঙ্গরে ভাসছিল ১৪২টি জাহাজ। জাহাজগুলোর মধ্যে ৪৬টিতে ছিল ২৩ লাখ ৪৬ হাজার টন খাদ্যপণ্য। রমজান ঘিরে এসব জাহাজে খাদ্যপণ্য আমদানি করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। সে সময়ে চাল, চিনি, তেল, ডালসহ সব পণ্যের দাম বাড়ে। বিএনপি সরকার গঠনের পরই দাম বৃদ্ধিতে ধাক্কা দেয় একটি সিন্ডিকেট, সেটি এখন আর মাথা তুলতে পারছে না।

চট্টগ্রাম বন্দরে অন্য জাহাজেও আটকা পড়েছিল পোশাক শিল্পের জন্য আমদানি করা কাঁচামাল, সিমেন্ট ও লবণসহ বিভিন্ন পণ্য। এতে সার্বিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জাতীয় অর্থনীতিতে। ভয়াবহ অচলাবস্থার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে সরকার। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ¦ালানি সরবরাহ সংকটে অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। যদিও তা সারা বিশে^র জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে খুচরা পর্যায়ে কাঁচা সবজির দাম কেজিতে অন্তত ২০ টাকা কমেছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। সবচেয়ে বেশি কমেছে মুরগি ও সবজির দাম। বাজারে চাল, ডাল ভোজ্যতেল, চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম বাড়েনি। তবে নতুন চালের দাম কমতে পারে বলে জানিয়েছের চাল ব্যবসায়ীরা।

চাটখিল রাইস এজেন্সি ও আহসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এসএম আহসান দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘সরকার গঠনের পর চালের দাম বাড়েনি। এখন বৈশাখ মাস, দাম আর বাড়বে না। কয়েকদিন পরে নতুন চাল আসবে। নতুন চাল এলে দাম বস্তায় অন্তত ১০০ টাকা কমবে।’

কারওয়ান বাজারে ফুটপাতে ব্যবসা করেন বরগুনা জেলার জালাল হোসেন। তিনি দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাজারে সবজি খুব আসছে। কোনো ঘাটতি নেই, কেজিতে দাম কমেছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।’ 

খুচরা পর্যায়ের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহের আগের তুলনায় দর কমেছে সবজির। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, ঢ়েঁডস ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পটোল ৬০-৭০ টাকা, করলা ও টমেটো ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ায় দামও কমেছে।

কারওয়ান বাজারে জনপ্রিয় পোলট্রি শপের মালিক দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘ইউনূস সরকারের আমলে পাকিস্তানি মুরগির দাম সর্বোচ্চ ২৬০ টাকা কেজি ছিল। কয়েকদিনের ব্যবধানের তা বেড়ে হয় ৪৫০ টাকা। এখন কমে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’ সরবরাহ কম হওয়ায় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, বলেন তিনি।

অন্যদিকে ডিমের দামও বেড়েছে বলে জানান ডিম ব্যবসায়ী উজ্জ¦ল। তিনি বলেন, ‘প্রতি ডজন ডিম এখন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের চেয়ে একটু দাম বেড়েছে’ বলেন তিনি। ঢাকার মগবাজারে ক্রেতা আবদুর রহমান বলেন, ‘দাম কখনো কমেছে বলে মনে হয় না। পুঁইশাকের আঁটি এখন ৫০ টাকা। কয়েকদিন আগেও ছিল ৩০ টাকা।’

মগবাজারে রাজ্জাক স্টোরের মালিক মেহেদি হাসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দাম বেশি বাড়েনি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দাম বেশি ছিল, এখন কমেছে।’

এদিকে দামের পার্থক্য হিসেবে চালের দাম উল্লেখ করে ঢাকার চাল ব্যবসায়ী বলেন, ‘বিআর-২৮ চালের কেজির খুচরামূল্য এখন ৫২ টাকা, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ছিল ৫৬ টাকা।’ তিনি বলেন, ‘দাম বাড়ার সময় শেষ। এখন চালের দাম আরও কমবে। প্রত্যেক বছরে এই সময়টাতে দাম বাড়ে।’