ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রগতি স্কিমে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সরকারের তাগিদ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৭:১৯ এএম

বেসরকারি খাতের কর্মীদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ‘প্রগতি স্কিমে’ তপশিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও তপশিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, তপশিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, দেশে বেসরকারি খাতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত শ্রমিক ও কর্মী কাজ করলেও তাদের অধিকাংশের জন্য অবসরকালীন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। এই বাস্তবতায় সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আওতায় চালু হওয়া ‘প্রগতি স্কিম’ কার্যকর সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে।

ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানান, স্কিমটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে শেয়ারভিত্তিক পেনশন-ব্যবস্থা চালু, মনোনীত ব্যক্তির জন্য আজীবন পেনশন-সুবিধা এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। সভায় জানানো হয়, প্রগতি স্কিমে মাসিক চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মী এবং বাকি ৫০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বহন করবে। মাসিক চাঁদার পরিমাণ ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া অবসরের পর আজীবন পেনশন, চাঁদায় কর অব্যাহতি, পেনশন আয়ের ওপর করমুক্ত সুবিধা এবং জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

সভায় উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, গত ৩০ মে পর্যন্ত সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। এ পর্যন্ত জমার পরিমাণ প্রায় ২৬০ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ৪৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর মধ্যে ২৪টি ব্যাংক সক্রিয়ভাবে পেনশন স্কিমের চাঁদা গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ব্যাংক খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রগতি স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও তপশিলি ব্যাংকগুলো সমন্বিত উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটিতে অন্তত একজন সদস্যকে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এ সময় সচিব নাজমা মোবারক ব্যাংকগুলোর সব শাখায় পৃথক পেনশন ডেস্ক স্থাপন, প্রচার কার্যক্রম জোরদার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রগতি স্কিমে অন্তর্ভুক্তির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।