চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে ৪৪০ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় যা ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের মে মাসে দেশের রপ্তানি ছিল ৪৭৩ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারের। গতকাল বুধবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বছরওয়ারি হিসাবে রপ্তানি কমলেও এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। এপ্রিলে রপ্তানি হয়েছিল ৪০০ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে মোট রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৭৯ কোটি ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি ডলারের। ফলে সামগ্রিক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত মে মাসে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এপ্রিলের তুলনায় এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালের মে মাসের ৩৯১ কোটি ৯১ লাখ ডলারের তুলনায় রপ্তানি কমেছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। জুলাই-মে সময়ে তৈরি পোশাক খাত থেকে মোট রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্রয়াদেশ কম দিচ্ছিল। নির্বাচনের পর ক্রেতারা ক্রয়াদেশ দিতে শুরু করেছে। যদিও ইরান যুদ্ধের কারণে সেটি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং চামড়াসহ ২৭ ধরনের পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৯ কোটি ৯২ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম।
ইপিবির তথ্যানুযায়ী, মে মাসে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খাতের মধ্যে কৃষিপণ্য এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমলেও হোম টেক্সটাইলের বেড়েছে। মে মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৭১ লাখ ডলারে। আর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। মে মাসে রপ্তানি হয়েছে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এ ছাড়া কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয় ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৭১ লাখ ডলারে, ২০২৫ সালের একই সময়ে যা ছিল ৬ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পণ্য যায়নি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, কানাডা, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে। ইপিবির মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও নতুন বাজার ও অপ্রচলিত খাতগুলোর ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। হোম টেক্সটাইল শিল্পমালিকদের সংগঠন বিটিটিএমএমইএর সভাপতি এম শাহদাৎ হোসেন বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় ছাড়া অন্যান্য পণ্যের চাহিদা কমেছে। ফলে অধিকাংশ কারখানায় ক্রয়াদেশ কম। তাতে সামনের মাসগুলোতে রপ্তানি পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, সেটি এখনই বোঝা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, টানা আট মাস রপ্তানি আয় কমার পর গত এপ্রিলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছিল। তবে মে মাসে আবারও রপ্তানি কমে যাওয়ায় সেই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

