দেশের কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বর্তমানে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতি এবং রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার ছত্রচ্ছায়ায় দিনদিন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে এই গ্যাং। একসময় পাড়া-মহল্লায় কিশোরদের আড্ডা বা ছোটখাটো দুষ্টুমি থাকলেও, বর্তমানে তা সুসংগঠিত অপরাধী চক্রে রূপ নিয়েছে। চলতি শতাব্দীর বাংলাদেশে ‘কিশোর গ্যাং’ নতুন হলেও শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও এখন এই গ্যাং কালচার বা ‘কিশোর অপরাধ’ মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে।
২০২৫ সালের পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত এক বছরে কিশোর অপরাধের হার বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। সারা দেশে ২৩৭টি কিশোর গ্যাং রয়েছে, যার সদস্যসংখ্যা ৫০ হাজার। শুধু ঢাকায়ই ২০ হাজার, এর মধ্যে মোহাম্মদপুর এলাকায় সর্বোচ্চ। গত দুই বছরে গ্যাংয়ের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিতলিতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, খুনসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু প্রযুক্তির বিস্তার, স্থানীয় আধিপত্যের লড়াই ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিস্তার ঘটেছে কিশোর গ্যাংয়ের। পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারা তাদের দাপটে অতিষ্ঠ। কয়েক বছর আগেও কিশোরদের মধ্যে এমন অপরাধ প্রবণতা দেখা যায়নি। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে অভিযান। তাতে গ্রেপ্তারও হচ্ছে। আর কিশোর আইনের নমনীয়তার সুযোগে অনেক অভিযুক্ত দ্রুত জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়াচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়, মূলত কিশোর গ্যাংগুলো প্রায়শই স্থানীয় বড় ভাই (রাজনৈতিক দলের নেতা) বা প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওসব প্রভাবশালীরাই নিজেদের স্বার্থে হত্যা, মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে কিশোরদের ব্যবহার করে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক সহজলভ্য হওয়ায় অপরাধে জড়িয়ে পড়া আরও সহজ হচ্ছে।
বর্তমানে কিশোর অপরাধীরা শুধু ইভ টিজিং বা মারামারিতে সীমাবদ্ধ নেই। তারা ভয়াবহ সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তুচ্ছ ঘটনা বা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোররা নৃসংশ হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। ঢাকায় গত ১৬ বছরে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে প্রায় ১০০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর অপরাধের প্রায় ৪০ শতাংশই এখন কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে ছিনতাই ও ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি অন্যতম। কিশোররা এখন দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি বিদেশি পিস্তল ও আধুনিক অস্ত্রও ব্যবহার করছে। এ ছাড়া মাদক পরিবহন ও সেবনে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, অশ্লীল ছবি ছড়ানো এবং হ্যাকিংয়ের মতো কাজেও কিশোরদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন সারা দেশে ২৩৭টির মতো ‘কিশোর গ্যাং’ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা শহরে ১২৭টি। ঢাকার পর চট্টগ্রামে রয়েছে ৫৭টি। অন্য জেলাগুলো মিলিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রয়েছে ৫৩টি।
কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংসতা আঁতকে দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সর্বশেষ গত রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজারে ‘আধিপত্যের বিরোধে’ কিশোর গ্যাং ‘এলেক্স গ্রুপের’ হোতা ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত অ্যালেক্স ইমনের বিরুদ্ধে জোড়া খুনসহ ১৮টি মামলা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র বলছে, এই নৃশংস হত্যাকা- ঘটিয়েছে আরমান-শাহরুখ গ্যাংয়ের সদস্যরা। ঢাকায় মোহাম্মদপুর, বছিলা, রায়ের বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের তৎপরতা বেশি। তা ছাড়া মিরপুর, পল্লবী, উত্তরা, বাড্ডা, ভাটারা, শাহজাহানপুর, রামপুরা, লালবাগ, কামরাঙ্গীর চর, পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর এলাকার মানুষও কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। অল্প বয়সে সাহস বেশি হওয়ায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারে মাঠে নেমে পড়ায় এসব কিশোরের দিকে নজর পড়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদেরও। তাদের দলে রেখে জমি দখল ও মাদক ব্যবসায় কাজে লাগায় তারা। প্রায় সময় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজ সংঘর্ষে জড়ায়। এখানে গ্যাং কালচার তৈরি হয় কলেজের নামকে সামনে রেখে। কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কটূক্তি নিয়েই যত দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।
সম্প্রতি ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সারওয়ার একটি অনুষ্ঠানে জানান, রাজধানীর সব থানায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। গ্যাং সদস্যদের পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকদেরও তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গ্যাং কালচারে যুক্ত এসব কিশোরকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা জাতির জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একার পক্ষে সম্ভব নয়, ঘর থেকে তাদের পিতা-মাতা, অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে খোঁজ রাখতে হবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে কোমলমতি স্কুলগামী কিশোরদের বিরাট অংশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
গোয়েন্দা ও মানবধিকার সংস্থার তথ্য মতে, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের কিশোররাই জড়িয়ে পড়ছে অধিক মাত্রায় অপরাধপ্রবণতায়। রাজনৈতিক দলের নেতা বা সমাজের স্বার্থান্বেষী মহল ওই কিশোরদের একটি অংশকে একত্রিত করে কিশোর গ্যাং তৈরি করে ব্যবহার করছে নানা অপরাধে। কিন্তু দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেও যথাযথ প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। কারণ গুরুতর অপরাধে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পরও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই সব কিশোর দুর্বৃত্ত আবার এলাকায় ফিরে আসছে। তারপর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে রাজধানীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটেছে। নির্বাচনের পর কিশোর গ্যাংগুলো স্থানীয় রাজনীতিকদের আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টায় রয়েছে।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রুখতে সারা দেশেই র্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তালিকা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। বয়স নয়, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য মতে, কিশোর গ্যাংয়ের উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হয় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব। অনেক সময় স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালীরা বা কথিত ‘বড় ভাইয়েরা’ নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে কিশোরদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। এই রাজনৈতিক প্রশ্রয় তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ বা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার মানসিকতা তৈরি করে। পাশাপাশি টিকটক, ফেসবুক গ্রুপ এবং মেসেঞ্জার কিশোরদের গ্যাং কালচারে উৎসাহিত করছে। ‘লাইক’ ও ‘শেয়ার’ পাওয়ার জন্য তারা সহিংস ভিডিও আপলোড করে এবং নিজেদের ‘ডন’ হিসেবে জাহির করতে চায়। অনলাইন গেমিং ও ইন্টারনেটে নেতিবাচক কনটেন্ট কিশোরদের সহিংস আচরণে প্রলুব্ধ করে। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার হওয়ায় কিশোররা একাকিত্বে ভোগে এবং ভুল বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে। বাবা-মায়ের মধ্যে অশান্তি বা বিচ্ছেদ কিশোরদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা তাদের বাইরের জগতের অপরাধীচক্রের প্রতি আকৃষ্ট করে। শহরাঞ্চলে কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ বা সাংস্কৃতিক পরিবেশ নেই। দরিদ্র পরিবারের কিশোররা অনেক সময় দ্রুত টাকা উপার্জনের নেশায় বা বড়দের প্রলোভনে পড়ে মাদক পাচার বা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে লিপ্ত হয়। দেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ পথশিশু রয়েছে, যাদের একটি বড় অংশকে ব্যবহার করে অপরাধীচক্র।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশের গাফিলতি নয়, বরং সারা দেশে তালিকা করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই ব্যক্তি জামিনে বের হয়ে ফের অপরাধে জড়ালেও তাকে ফের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। পুরো পুলিশ ফোর্স কিশোর গ্যাং কালচার কঠোরভাবে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।
পুলিশ জানায়, ঢাকার মধ্যে আদাবর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। এ দুটি স্থানে একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে। এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারিদের নেতৃত্বে চলছে কিশোর গ্যাংগুলো। একসময় স্থানীয় ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসু ও কাসুর কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান ছিলেন ডিবি সুমন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাসু ও কাসু পালিয়ে যাওয়ায় তাদের অনুপস্থিতিতে তার ভাই স্বাধীনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে সে। স্বাধীনের ইন্ধনে পুরো এলাকায় ত্রাস কায়েম করতে এমন মহড়া দিয়েছে চক্রটি। আদাবর এলাকার আলিফ হাউজিং, শ্যামলী হাউজিং, শেখেরটেক ও ঢাকা উদ্যান এলাকার সব ধরনের অপরাধের সঙ্গে এদের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া মিরপুর, উত্তরা, পুরান ঢাকার বিভিন্ন মহল্লা, ডেমরাসহ রাজধানীর ৫০টি থানা এলাকায় কিশোর-তরুণ গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আগের চেয়ে বেড়েছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত আয়ের হাতছানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্যাং সংস্কৃতির প্রচার, আইন প্রয়োগের দুর্বলতাসহ বিভিন্ন কারণে কিশোরেরা অপরাধে জড়াচ্ছে। পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ নিতে হবে। পুলিশ এ জন্য ইমাম, শিক্ষক ও এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে কাজ করছে। এসব এলাকায় অভিযান চালিয়েও লাগাম টানতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ডিএমপির সূত্র বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের আগে রাজধানীতে ৩ থেকে ৫ হাজার কিশোর গ্যাং সদস্য ছিল, যা বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার। এদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃহত্তর মোহাম্মদপুর ও পল্লবীতে। এর কারণ মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন ক্যাম্প ও অর্ধশত বস্তি। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরউদ্দিন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দাসহ ডিএমপির সব কয়টি ইউনিট কিশোর গ্যাং সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে রাত-দিন কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে।
সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে ব্যবস্থা নিতে গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নোয়াখালী-২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকার পর কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি বেশি চট্টগ্রাম মহানগরে। সেখানে অন্তত ৫৭টি কিশোর গ্যাং রয়েছে। ৩ এপ্রিল নগরের জামালখান এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ‘ডেঞ্জার’ নামের কিশোর গ্যাংয়ের ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও কিশোর গ্যাং দ্রুত বাড়ছে। ৩ এপ্রিল কুমিল্লার ধর্মসাগরপাড়ে বেড়াতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হন এক পুলিশ দম্পতি। স্ত্রীকে ইভ টিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় কনস্টেবল স্বামীকে ছুরিকাঘাত করে পালায় তিন কিশোর। পরে হামলার সঙ্গে জড়িত কুমিল্লার খালিয়াজুড়ির মো. রিফাত এবং আদর্শ সদর উপজেলার ভুবনঘরের সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কুমিল্লায় ছুরিকাঘাতের এক দিন পর নোয়াখালীর সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে মো. সেলিম নিহত হন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করে পুলিশ। কিশোর গ্যাংয়ের এমন উৎপাত প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দ্বারা অপরাধ সংঘটিত হলে এবং তা গণমাধ্যমে উঠে এলেই শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো অভিযান চালায়। কিন্তু উচিত গোড়ায় হাত দেওয়া। কিশোর গ্যাং তৈরি এবং এর দ্বারা যারা সুবিধাভোগী তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এর বাইরে গ্রেপ্তারের পর দ্রুত জামিন হয়ে যাওয়া বিষয়ে কোনো সিন্ডিকেট রয়েছে কি না সেটাও খুঁজে বের করতে হবে।
সরকারকে পরামর্শ দিয়ে ড. তৌহিদুল হক বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অধিকাংশ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কোনো না কোনো কর্মে নিয়োগ দিতে পারলেই শুধু অপরাধ দমন করা সম্ভব হবে। লেখাপড়া, খেলাধুলা ও কর্মে নিয়োজিত করতে পারলে কিশোর গ্যাং কালচার পুরোপুরি না হলেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনা সম্ভব।

