× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৫:৩৯ এএম

৩ জনের সিন্ডিকেটে লুটপাট দুই প্রকল্পে

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৫:৩৯ এএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বর্তমানে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা ৭০ লাখ টন। এর মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত (ক্রুড অয়েল) তেল ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে পরিশোধন করা হয়। দেশের একমাত্র এই জ্বালানি তেল পরিশোধনাগারটি চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত (ক্রুড অয়েল) তেলের মূল্য কম হলেও ১৫ লাখ টনের বেশি পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন রিফাইনারি না থাকায় অবশিষ্ট ৫৫ লাখ টন পরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি মূল্যে আমদানি করতে হয়। এই সমস্যা থেকে বের হতেই আওয়ামী লীগ সরকার ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট-২ (ইআরএল-২) এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং (এসপিএম) প্রকল্প নির্মাণের তৎপরতা শুরু করে। বাস্তবায়নও হয় এসপিএম প্রকল্প। কিন্তু এর মাধ্যমে নসরুল হামিদ, সালমান এফ রহমান গং হাতিয়ে নেয় হাজার কোটি টাকা। যার পুরোটাই পাচার হয় বিদেশে। তাদের সাগরেদ হিসেবে হিসেবে নাম আসে কসমস গ্রুপের কর্ণধার এনায়েত উল্লাহ খানের। এই এনায়েত উল্লাহ খান অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়েও কাজ পেতে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা ধরনের তৎপরতা। শুধু এসপিএম প্রকল্প নির্মাণেই হাজার কোটি টাকা পাচার করা এই সিন্ডিকেট যদি ইআরএল-২ নির্মাণের সুযোগ পেত তা হলে দেশের কোষাগার থেকে ঠিক কত পরিমাণ অর্থ বের হয়ে যেত তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর চালু হয় এসপিএম প্রকল্প। গভীর সমুদ্র থেকে তেলবাহী মাদার ভেসেল থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে চালু হয় তেল খালাসের প্রক্রিয়া। উদ্বোধনের দিনই সৌদি আরব থেকে আমদানি করা প্রায় ৮২ হাজার টন ক্রুড অয়েল বোঝাই তেলবাহী জাহাজের তেল স্টোরেজ করা শুরু হয়। আর এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় ইন্সটলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন প্রকল্পের আওতায় বঙ্গোপসাগরে স্থাপিত ভাসমান জেটির (এসপিএম বয়া) মাধ্যমে। এ তেল গিয়ে স্টোরেজ হয় মহেশখালীতে স্থাপিত ট্যাংক ফার্ম এলাকার ট্যাংকে। তখন জ্বালানি বিভাগ থেকে দাবি করা হয়, এ প্রক্রিয়ায় তেল খালাস করতে সর্বোচ্চ সময় লাগবে ৪৮ ঘণ্টা, যা এর আগে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খালাসের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৪ দিনের মতো সময়ের প্রয়োজন হতো। সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি এসপিএম-এর মাধ্যমে বছরে ৮শ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা খরচ বাঁচবে বলেও দাবি করা হয়।

জানা যায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রায় ৮ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ইন্সটলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ ওই বছরের ২ জুলাইয়ে কমিশনিং করে পরীক্ষামূলকভাবে সাগর থেকে জ্বালানি তেল খালাসের কার্যক্রম শুরু করে। ৮ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ও চীনের জি-টু-জি প্রকল্পের আওতায় ৯০ একরেরও বেশি জমিতে এই এসপিএম নির্মিত হয়। তৎকালীন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরাও দাবি করেন, এসপিএমের ফলে বহির্নোঙর থেকে জ্বালানি ট্যাংকে পেট্রোলিয়াম পণ্যের পরিবহন খরচ কমবে। ফলে বছরে প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বাঁচবে সময়ও। প্রক্রিয়াটিতে ১.৮০ লাখ কিলোলিটার অপরিশোধিত তেল ধারণক্ষমতার তিনটি এবং ১.০৮ লাখ কিলোলিটার পরিশোধিত তেল ধারণক্ষমতার তিনটি ট্যাংক ব্যবহার করা হবে।

সম্প্রতি এই প্রকল্পে সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য রূপালী বাংলাদেশের হাতে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে জাহাজ থেকে সরাসরি ক্রুড অয়েল স্থানান্তরের জন্য একটি সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং (এসপিএম) স্থাপনের জন্য সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশের অনুরোধে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) ২৩৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়। এর ধারাবাহিকতায় জার্মান কনসালটেন্ট ‘আইএলএফ’ (আইএলএফ কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স) মতামত প্রদান করে যে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য এই পরিমাণ অর্থ যথেষ্ট নয়। যার প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সরকার আইএলএফের পরামর্শে ঋণ ৩০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার অনুরোধ করে। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় নসরুল হামিদ বিপু বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এবং দ্রুতই এই প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য চায়নাকে অনুরোধ করেন এবং চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (সিপিপি) এই প্রকল্পে অর্থায়নে রাজি হয়। তখন থেকেই দুর্নীতির সূত্রপাত শুরু হয়। অভিযোগ পাওয়া যায়, নসরুল হামিদ উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে নতুন কিছু আইটেম যোগ করে প্রকল্পের কলেবর অপ্রয়োজনীয়ভাবে বৃদ্ধি করেন। প্রাথমিকভাবে উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক একটি পাইপ লাইনের সুপারিশ করা হলেও পরবর্তীতে এখানে আরও একটি পাইপলাইন যোগ করা হয় এবং সেই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়ভাবে একটি সাম্প ট্যাংক স্থাপন করার প্রস্তাব করা হয়। এই যন্ত্রপাতি যোগ করার আসল কারণ দ্রুতই সামনে চলে আসে যখন চাইনিজ প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পটির ব্যয় ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ছলচাতুরির মাধ্যমে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি ৫৮৬ মিলিয়ন ডলারে চূড়ান্ত করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিপিপি-এর যোগ্যতা যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, সেই পরিপ্রেক্ষিতে চাইনিজ কোম্পানিটির কাছে তাদের সাব-সি পাইপলাইন এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং (এসপিএম) স্থাপনের অভিজ্ঞতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা একটি বেশ রিমোট আফ্রিকান কান্ট্রিতে এই ধরনের কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিল। যার কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি।’ এমনকি সরেজমিনেও যান মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল। কিন্তু সিপিপির এই ধরনের কাজের কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি। কিন্তু তারপরও তৎকালীন জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রীর রোষানলে পড়ার ভয়ে একটি ইতিবাচক প্রতিবেদন তৈরি করে দেন তারা। আর এতেই পোয়াবারো হয় নসরুল হামিদের। পরবর্তীতে কোনো প্রকার প্রতিযোগিতা ছাড়াই কেবল সিপিপি প্রদত্ত দরের ওপর নেগোসিয়েশন করে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। ইতোমধ্যে সিপিপিকে ৪ বার প্রকল্পের প্রাইস এসক্যালেশন (বৃদ্ধি) অনুমোদন দেওয়া হয়, যার ফলে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে প্রাক্কলিত একটি প্রকল্পের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার, অথচ এখন পুরো প্রকল্পটিই স্থবির হয়ে গেছে।

কেবল একটি এসপিএম নির্মাণ করতেই রাষ্ট্রের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হয়েছে, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য অশনিসংকেত উল্লেখ করে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ¦ালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে লুটপাট হয়েছে তা আর কোনো খাতে হয়নি। অর্থ ও সময় বাঁচানোর নামে এসপিএম প্রকল্প একটি ধোঁকাবাজির প্রকল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।’

এই প্রকল্পে কীভাবে এনায়েত উল্লাহ খানের নাম এলো : জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে তখন এটি ওপেন সিক্রেট ছিল যে, নসরুল হামিদের সঙ্গে এনায়েত উল্লাহ খানের সখ্য। নসরুল হামিদকে নানান সময় নানান ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে এনায়েত উল্লাহ খান বিভিন্ন সময় বাগিয়ে নিয়েছেন অনেক কাজ। এই এসপিএম প্রকল্পের দুর্নীতিতেও নসরুল হামিদ বিপুর অন্যতম সহযোগী ছিলেন এনায়েত উল্লাহ খান। যিনি এখনো এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য পেতে ব্যাপকভাবে তৎপর ছিলেন। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নসরুল হামিদের এক একান্ত সহকারী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘এনায়েত উল্লাহ খানের ফুলেফেঁপে ওঠার একমাত্র সিঁড়ি ছিলেন নসরুল হামিদ। তার মাধ্যমে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতের বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নিতেন এই রাঘব-বোয়াল।’ যা সরকার পতনের পরও অব্যাহত রয়েছে দাবি করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে দেশের বাইরে থেকেও তিনি বিএনপি সরকারকে নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে কাজ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বিভিন্ন কাজ পেয়েছেন। আসলে যারা পারে তারা সবই পারে।’

এসপিএম নির্মাণের লক্ষ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত : আওয়ামী লীগের একেবারে শেষ সময়ে চালু হয় এই এসপিএম। এর কিছুদিনের মধ্যেই ওই সরকারের পতন হয়। এরপর এসপিএম ব্যবহারের বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। তারা এসপিএমের অপারেটর নিয়োগ দেওয়ার জন্য নামমাত্র আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে তবে সে দফায় মাত্র দুটি দরপত্র জমা পড়ে। তার একটি আবার যোগ্যই ছিল না। ফলে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা এসপিএম আর চালু করা যায়নি। ফলে দিনের পর দিন অব্যহৃত থাকায় এর মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ইআরএল-২ নির্মাণেও কালো হাত বিপু ও এনায়েতের : জ্বালানি সক্ষমতা অর্জনের জন্য ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট-২ স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। এর প্রেক্ষিতে প্রায় ১২ বছর আগে সরকার এই ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট-২ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনেও রয়েছে নসরুল হামিদ বিপু, এনায়েত উল্লাহ খান ও সালমান এফ রহমানের কালো হাত।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক জুলকার নাইন সায়ের এ বিষয়ে রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি যতদূর জানি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণের কাজটি পায় ফরাসি প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। এই প্রতিষ্ঠানটিতে ইতালিরও মালিকানা রয়েছে। এই স্যাটেলাইট নির্মাণে খরচ হয়েছিল ৩ হাজার কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটির লোকাল এজেন্ট ছিল সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো। এরই ধারাবাহিকতায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট-২এর কাজটি পায় ফ্রান্সের আরেক প্রতিষ্ঠান টেকনিপ। সেটিরও লোকাল এজেন্ট ছিলেন সালমান এফ রহমান। অথচ একই সময় চীনের দুটি কোম্পানি ‘বিল্ড অন অপারেশন’ মডেলে অনেক কম খরচে বানিয়ে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু রাজি হননি প্রতিমন্ত্রী বিপু, সালমান রহমান ও এনায়েত উল্লাহ খান। শেষ পর্যন্ত তারা বেশি দাম দিয়েই টেকনিপের সঙ্গে চুক্তি করে। প্রকল্পের প্রাথমিক অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৪২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ফ্রেঞ্চ কোম্পানি টেকনিপ-কে কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই এককভাবে ফ্রন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন (ফিড)-এর জন্য কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়। প্রচলিত আইন এবং সরকারের পলিসি অনুসারে উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কখনো একই প্রতিষ্ঠান হতে পারে না। তারপরেও এইসব নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে টেকনিপ-কে প্রকল্প বাস্তবায়নের কন্ট্রাক্ট দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অবশেষে প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য টেকনিপ অতি উচ্চ সুদ হারের একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করলে তা ইআরডি কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়। ফলে প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইআরএলের এক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন থেকে ইআরএল-১ এ কর্মরত। ইআরএল-২ প্রকল্পটি দেশের জন্য খুবই জরুরি ছিল। কিন্তু এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন হয়েও এস আলম গ্রুপ এটি নির্মাণের চুক্তি পায়নি। নসরুল হামিদ বিপু, এনায়েত উল্লাহ খান ও সালমান এফ রহমানের সিন্ডিকেট এই ফাইল পাস না করার জন্য বিপিসির চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেন, তৎকালীন বিপিসির চেয়ারম্যান ছিলেন শামসুর রহমান। বিপিসি যেহেতু ইস্টার্ন রিফাইনারির মালিক, তিনি এই যুক্তি দেন যে সরকারি মালিকানায় থাকা ইস্টার্ন রিফাইনারির ইউনিট-২এর মালিকানা এস আলমের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছাড়া যাবে না। তাতে আইনগত জটিলতা তৈরি হবে। আর বিপিসির এমন অবস্থানের কারণেই এস আলমের প্রস্তাবও ভেস্তে যায়। আর এর ফলেই এই প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি, যা আন্তর্জাতিক জ¦ালানি সংকটের এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।’

বর্তমানে সালমান এফ রহমান কারাগারে, নসরুল হামিদ বিপু বিদেশে পলাতক এবং এনায়েত উল্লাহ খানের মুঠোফোন বন্ধ থাকার কারণে অভিযোগের বিষয়ে কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!