২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ঢাকার অপরাধ জগতে সহিংসতার নতুন ঢেউ আছড়ে পড়েছে। আধিপত্য বিস্তারের এক নতুন লড়াইকে উন্মোচিত করেছে। কুখ্যাত অপরাধী সানজিদুল ইসলাম ইমন যিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘ক্যাপ্টেন’ নামে পরিচিত, এখন শহরের অবিসংবাদিত ‘জেনারেল’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। দীর্ঘদিন কারাগারে বসে নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়ে গেছেন। ৫ আগস্টের পর জামিনে বেরিয়ে বিদেশে পালিয়ে যান তিনি। সেখান থেকেই কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে হত্যা, দখল ও চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ইমন রাজধানীর অপরাধ জগতের এক কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পুনরায় আবির্ভূত হয়েছেন। রাজধানীর ধানমন্ডি, হাজারিবাগ, নিউমার্কেট ও এলিফ্যান্ট রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে চাঁদাবাজির চক্র ও সংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার চেষ্টা করছেন। আধিপত্য বিস্তারের এই লড়াইয়ের সর্বশেষ নজীর হলো গত ২৮ এপ্রিল। এদিন তারই সম্মন্ধী আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইমনের ভূমিকা ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইমনের নির্দেশে টিটন হত্যাকা- ঘটে। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এটাকে ‘একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ঢাকার অপরাধ জগতের গভীর শত্রুতা ও আর্থিক বিরোধের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর ক্ষমতার লড়াই তীব্রতর হয়, যা একটি শূন্যতা তৈরি করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলো সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। যেখানে বেশ কয়েকজন পরিচিত অপরাধী স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল, সেখানে ইমন বিপরীত পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রভাব বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। বিভিন্ন সময় কারাবাসে থাকা সত্ত্বেও ইমন তার কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন।
সূত্র জানায়, তিনি কারাগার থেকে এবং বিদেশ থেকেও তার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেছেন। সীমান্ত পেরিয়ে তার কর্তৃত্ব বজায় রাখার ক্ষমতা সংগঠিত অপরাধ কাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করেও ঢাকার অপরাধ জগতের লাগাম টানতে ব্যর্থ হচ্ছে তারা। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে, দেশের সবকটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণে একযোগে মাঠে নেমেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ ইমনসহ সব শীর্ষ সন্ত্রাসীকে পুনরায় আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। যেকোনো মূল্যে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ নাগরিকদের মনে ভয় দূর করা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ইমনের নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিভিত্তিক হত্যাকা-, চাঁদাবাজি এবং এলাকাগত বিরোধের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে বিলুপ্ত ইমন-মামুন গ্যাং, যা একসময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর এবং তেজগাঁওজুড়ে সক্রিয় ছিল। রাজধানীর সবচেয়ে ভয়ংকর সিন্ডিকেটগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হামলার পরেও এর প্রভাব বজায় ছিল। যার মধ্যে ২০২৩ সালে সহযোগী তারিক সাইফ মামুনকে গুলি করার চেষ্টা এবং নভেম্বরে মামুনের হত্যাকা-ও অন্তর্ভুক্ত। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, নেটওয়ার্কটি এখনো সক্রিয় রয়েছে। একটি ঘটনায়, এলিফ্যান্ট রোডে দিনের আলোতে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত করা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, এই কাজ ইমনের সহযোগীরা করেছে। যদিও সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, তিনি ইতিমধ্যেই জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দেশ ছেড়েছেন এবং মালয়েশিয়া থেকে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে, ইমনের অপরাধের ইতিহাস কয়েক দশকব্যাপী বিস্তৃত। ১৯৯৮ সালে চলচ্চিত্র অভিনেতা সোহেল চৌধুরী এবং ১৯৯৯ সালে সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যাকা-সহ একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলায় তিনি অভিযুক্ত। তদন্তকারীদের মতে, ২০০৮ সালে ভারত থেকে প্রত্যর্পিত হওয়ার পর ইমন ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে সংঘটিত সাতটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক খুনের অভিযোগসহ অন্তত ৩৩টি মামলা রয়েছে। অতীতে, তদন্তকারীরা তাকে হাজারিবাগের ট্যানারি ব্যবসার মতো লাভজনক খাতে আধিপত্য বজায় রাখার জন্য কারাগার থেকে হত্যাকাণ্ড পরিচালনাকারী হিসেবেও চিহ্নিত করেছে। সূত্রমতে, তার মালেয়শিয়া, থাইল্যান্ড, দুবাই ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে পুনরায় আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অনেক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও জামিন বাতিলের আবেদনও রয়েছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক (মুখপাত্র) বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, ঢাকার অপরাধ জগতের লাগাম টানতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। অতীতের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসী বা যেকোনো অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অগ্রগামী র্যাব। সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজদের ধরতে র্যাব জিরো টলারেন্স নীতিতে চলে থাকে।
জানা গেছে, একাধিক মামলায় ২০০৮ সাল থেকে কারাগারে থেকেই ধানমন্ডি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছিলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই শীর্ষ সন্ত্রাসী। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট বিকেলে জামিনে মুক্তি পেয়েই আধিপত্য বিস্তারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ইমন ও তার ক্যাডাররা। দেশের বাইরে আত্মগোপেন থেকে অপরাধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন। জোন ভাগ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে গড়ে তুলেছেন চাঁদাবাজির বলয়। ঢাকা দক্ষিণের প্রায় সব এলাকার টেন্ডার (ময়লা অপসারণ, রাস্তাঘাট নির্মাণ-সংস্কার) বাণিজ্য, ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসা, পরিবহন, ফুটপাত, বাজার, ঝুট ব্যবসা, সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল, ভবন নির্মাণ (ডেভেলপার) প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাত থেকে আসা কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজির নাটাই এখন ইমনের হাতে। ফুটপাতের চা-দোকানি থেকে বহুতল ভবনের ব্যবসায়ীকেও মাসিক চাঁদার হার বেঁধে দিয়েছে তার ক্যাডাররা। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দিলেই সদলবলে অস্ত্র নিয়ে হামলে পড়ছে ব্যবসায়ীদের ওপর। ধানমন্ডি, পশ্চিম ধানমন্ডি, রায়েরবাজার, হাজারীবাগ, টালি অফিস, জিগাতলা, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেটসহ পুরো এলাকার ভবন নির্মাণ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ময়লার সিন্ডিকেট, ডিশ ব্যবসা, ইন্টারনেটের ব্যবসা সবকিছুর একক আধিপত্য পেতে এখন মরিয়া ইমন বাহিনী।
চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে জোনভেদে ক্যাডার বাহিনীকে সাজিয়েছেন ইমন। এর মধ্যে নগর ভবনের টেন্ডার বাণিজ্যের দায়িত্বে আছেন তাহের ও আলমগীর। নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নবাবগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, ঝিগাতলা, রায়েরবাজার, এলিফ্যান্ট রোডসহ আশপাশের এলাকার মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে সব বিপণিবিতাণ, কাঁচাবাজার, গার্মেন্টসহ বিভিন্ন সেক্টরের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রকও ইমনের সিন্ডিকেট। আগে দক্ষিণের সাবেক মেয়র তাপসের ছত্রছায়ায় কারাগারে বসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অনুর সঙ্গে সিন্ডিকেট পাকিয়ে এসব এলাকার অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন ইমন ও তার অনুসারীরা। সম্প্রতি দুই রবির (রবিউল আলম ও রবিউল ইসলাম) কাঁধে ভর করে অপরাধের নতুন সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি। গত ১০ অক্টোবর হাতিরঝিল থানাধীন মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দীপ্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা তানজিল জাহান ইসলাম তামিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতরাও ইমনের ঘনিষ্ঠ বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনিচকসহ স্থানীয় বিপণিবিতানগুলোয় ইন্ডিয়ান মালামাল নিয়ে রাতে আসা প্রতি ট্রাক থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করেন ইমনের সহযোগী এহসান। হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সাম্রাজ্য দেখভাল করেন তাহের। নিউপল্টন এলাকায় চাচা জাহিদ। নবাবগঞ্জ এলাকায় মুক্তার ও সেন্টু। ফুটপাতে মাদক ব্যবসার চাঁদা আদায় করেন টুন্ডা আনোয়ার। কামরাঙ্গীরচর-ডুরি-আঙ্গুল লেন ও নবাবগঞ্জ এলাকায় আলমগীর ও জাহাঙ্গীর। লালবাগ এলাকায় নাসির। এ ছাড়া নিউ পল্টন ও নবাবগঞ্জ বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন ইমনের ক্যাডার কামরুজ্জামান সুজন, চাচা জাহিদ এবং ২৩নং ওয়ার্ডে ফায়সাল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন পিচ্চি ও খলিলুর রহমান ওরফে মোল্লা রিপন। এ ছাড়া টাকি সোহেল ও মুক্তার হোসেন নবাবগঞ্জ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সেকশন ইজিবাইক স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ করেন ইমনের হয়ে।
কে এই ইমন : স্বনামধন্য চিকিৎসক দম্পতির সন্তান ইমন। ধানমন্ডি ৪ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর বাড়ির ডাক্তার মল্লিক আব্দুল্লাহ’র সন্তান সানজিদুল ইসলাম ইমন। এলাকার বখাটে কিছু ছেলের সঙ্গে মেলামেশা করতে গিয়ে অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে তার পরিচয়। তার শখ হয় নিজের কাছে অস্ত্র রাখার। সেই শখ মেটাতেই টাকা দিয়ে নিত্যনতুন অস্ত্র কিনতে থাকেন ইমন। যখন যার কাছে নতুন কোনো অস্ত্রের সন্ধান পান, তাকেই বলেন অস্ত্র কিনে দিতে। ধীরে ধীরে তার এই অস্ত্রের ভাঙারের সংবাদ চাউর হয়ে যায় আন্ডারওয়ার্ল্ডে। তার শত্রুও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তাকে টার্গেট করে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপরই মূলত ইমন নিজেকে রক্ষায় শখের সেই অস্ত্র হাতে তুলে নেন। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে শুরু হয় তার অন্যরকম এক সহিংস মিশন। শৌখিন এই সন্ত্রাসী একসময় হয়ে ওঠেন দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী। ইমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয় ১৯৯৯ সালে ধানমন্ডি এলাকার গালকাটা জব্বার নামে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে। পরে তিনি হয়ে ওঠেন ধানমন্ডি এলাকার ত্রাস। পর্যায়ক্রমে ইমনের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের পরিধি বিস্তৃত হয় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, রমনা, বাড্ডা, কোতোয়ালি, লালবাগ, উত্তরা, তেজগাঁও ও হাজারীবাগ এলাকায়। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় ৩৩টির বেশি হত্যা মামলা রয়েছে। যার মধ্যে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম অশ্রু হত্যাকাণ্ড রয়েছে।
২০০০ সালের শেষ দিকে গ্রেপ্তার এড়াতে ইমন ভারতে আত্মগোপন করেন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর দেশে ফেরেন ইমন। আবার শুরু হয় তার সন্ত্রাসী তৎপরতা। তবে ২০০৫ সালে র্যাবের ক্রসফায়ারের ভয়ে আবার ভারতে পালিয়ে যান ইমন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে সিআইডির সাবেক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আরেফের নেতৃত্বে একটি টিম ইমন, তাজ, ইব্রাহিম, লম্বু সেলিমসহ সাত সন্ত্রাসীকে দেশে ফেরত আনে। এরপর থেকে ইমন কারাগারে ছিলেন। কিন্তু কারাবন্দি থেকেও থেমে থাকেনি ইমনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট তিনি জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

