ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বুলেটের রাজনীতি বনাম সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন

থামছেই না সীমান্ত হত্যা

মোস্তাফিজুর রহমান সুমন
প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৪:২৩ এএম

সীমান্তে আবারও পড়ছে লাশ, বাতাসে বারুদের গন্ধ আর সীমান্তবাসীর চোখে ঘুমহীন অন্তহীন আতঙ্ক। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আগ্রাসনে নতুন করে ফুঁসছে পুরো দেশ। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লালমনিরহাটের পৃথক সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিন বাংলাদেশি। চলতি ২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৯ জনে। এদিকে সদ্য ক্ষমতা নেওয়া বিএনপি সরকারের মাত্র দুই মাসেই সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামানোর প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকদের হাতে প্রাণ গেছে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জন বাংলাদেশির। নতুন করে এই সংকটের আগুনে ঘি ঢেলেছে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়। সব মিলিয়ে জনমনে প্রশ্ন, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা কবে বন্ধ হবে? 

তথ্য অনুসারে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লালমনিরহাটের পৃথক তিনটি ঘটনায় তিন বাংলাদেশি যুবককে হত্যা করেছে বিএসএফ। এর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে। গত ৮ মে রাতে বিএসএফের গুলিতে মোরছালিন (২২) ও নবীর হোসেন (৪০) নামে দুই বাংলাদেশি নিহত হন। মোরছালিন ছিলেন গোপীনাথপুর শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। এই ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই বিএসএফ সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এর কয়েক দিন পর গত ১৩ মে রাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারান খাদেমুল (২৫) নামে এক যুবক। বিএসএফের ছোড়া ছররা গুলিতে তার মুখ, বুক ও মাথা ক্ষতবিক্ষত হয়। এর আগে ৭ এপ্রিল একই জেলার পাটগ্রাম সীমান্তে গভীর রাতে আলী হোসেন (৩৮) নামে আরেক যুবক বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। যদিও পতাকা বৈঠকে বিএসএফ এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে, তবে সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ১৮ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ ও গুলিতে হতাহতের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই একটি উদ্বেগজনক মানবাধিকার সংকট হিসেবে বিদ্যমান। সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারবার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির কথা শোনা গেলেও বাস্তবে সীমান্তে গুলি ও প্রাণহানির ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না, যা গভীর উদ্বেগের।

জানা গেছে, বাংলাদেশে সীমান্ত এলাকাগুলো, বিশেষ করে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চল, দীর্ঘদিন ধরে চরম আতঙ্ক এবং ‘অদৃশ্য’ অমানবিক বাস্তবতার মুখোমুখি। কাঁটাতারের বেড়া, নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ি এবং নিয়মিত গোলাগুলির কারণে সীমান্তবাসীর জীবন একরকম অবরুদ্ধ। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পাচারকাজে জড়িয়ে পড়ে ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী। এদিকে মিয়ানমার থেকে নিয়মিত ছোড়া মর্টার শেল আতঙ্ক ছড়ায় তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্তে।

বাংলাদেশ সীমান্তের কিছু অঞ্চলে স্থানীয়দের কাছে বিএসএফ শুধু সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নাম নয়, আতঙ্কের প্রতিশব্দ। এই আতঙ্কিত জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ সীমান্তবর্তী অপরাধ জগৎ ও স্মাগলিংয়ের সঙ্গে জড়িত, যা অনেক ক্ষেত্রেই সংবাদমাধ্যমে সেভাবে প্রকাশিত হয় না।

বাস্তবতা হলো, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা সত্ত্বেও সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। তথ্য অনুসারে, বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ১৫৪ জন বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ৪০ শতাংশই রংপুর বিভাগের। ১৯৭২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৯৬৬ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম জটিল আন্তর্জাতিক সীমান্ত। প্রায় প্রতিটি সেক্টরেই রয়েছে জনবসতি, কৃষিজমি, আন্তঃসীমান্ত সামাজিক সম্পর্ক, চোরাচালান রুট, মানবপাচার করিডর এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় উপস্থিতি। এর মধ্যে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনা, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে ঘিরে আগ্রাসী রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা-অভিযান পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে সীমান্তে অধিকাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ভারতীয় ভূখ-ে, বিএসএফের অপারেশনাল কন্ট্রোল জোনে। অর্থাৎ ফায়ার কন্ট্রোল, গ্রাউন্ড ডমিনেশন এবং রুলস অব এনগেজমেন্ট সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় বাহিনীর হাতে থাকে।

মৌলিক বাস্তবতা হলো, কোনো দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষী বাহিনী অন্য দেশে প্রবেশ করে পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে না। এমনটি হলে তা হবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘন এবং তাৎক্ষণিক ট্যাকটিক্যাল উত্তেজনাকে স্ট্র্যাটেজিক সংঘাতে রূপ দিতে পারে।

সীমান্তে এই নির্বিচার হত্যাকা-ের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন এবং মানবাধিকার সংস্থা। চলতি সপ্তাহে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা জানায়, বিচারবহির্ভূতভাবে সরাসরি গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পৃথিবীর বহু দেশের সীমান্তে অনিয়মিত প্রবেশ বা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগকে সাধারণ বা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে দেখা যায় না। মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালা অনুযায়ী জীবনরক্ষার বাধ্যবাধকতা সর্বাগ্রে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরের উপপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সীমান্তে বিজিবির সব ব্যাটালিয়নকে রাত-দিন টহলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজিবি সীমান্তে হত্যা এবং চোরাচালান বন্ধের পাশাপাশি সব ধরনের নিরাপত্তায় সতর্ক রয়েছে। বিজিবি সীমান্তে প্রতিদিন যুদ্ধ সংঘটিত হওয়া প্রতিরোধ করে। এই বাস্তবতা জনসমক্ষে খুব কম দৃশ্যমান। কারণ একটি লাশের ছবি সংবাদ হয়, কিন্তু একটি সম্ভাব্য সীমান্ত সংঘর্ষ প্রতিরোধ করার ঘটনা সাধারণত শিরোনাম হয় না। সীমান্তে বিজিবির ভূমিকা মূলত এসকেলেশন কন্ট্রোল, বর্ডার স্ট্যাবিলিটি এবং কৌশলগত সংযম বজায় রাখার মধ্যে নিহিত।

বিজিবি সূত্র জানায়, কোনো গুলির ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ফ্ল্যাগ মিটিং, কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের যোগাযোগ, ব্যাটালিয়ন কমান্ডার সমন্বয়, কূটনৈতিক প্রতিবাদ, ট্যাকটিক্যাল প্যাট্রোল রিইনফোর্সমেন্ট, ডিজিটাল সার্ভিল্যান্স বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ বিওপি এলাকায় ডমিনেশন প্যাট্রোল এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীকে সতর্ক করাÑ এগুলোই আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রতিক্রিয়া। একই সঙ্গে বিজিবি প্রতিদিন সীমান্তে অস্ত্র, মাদক, মানবপাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করে। অসংখ্য অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো হয়, মানবপাচারের শিকার বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়, সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি সিন্ডিকেট শনাক্ত করা হয়। কিন্তু এসব নীরব সাফল্যের দৃশ্যমানতা কম।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা, শারীরিক নির্যাতন এবং ধাওয়া করে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে অহরহ। হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে ৬ শতাধিক মানুষ বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালে গড়ে প্রতি বছর ৩০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন অনেকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০১১ সালের ফেলানী হত্যাকা-। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিএসএফের অতিরিক্ত বল প্রয়োগে এসব হত্যাকা- ঘটে। অধিকাংশ হত্যার কোনো বিচার হয়নি, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার দাবি করে আসছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে গবাদি পশু বা পণ্যপাচার এবং অবৈধ পারাপারকে বিএসএফের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অধিকার এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মতো বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই হত্যাকা-গুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত’ বলে আখ্যায়িত করে এর তীব্র সমালোচনা ও বিচার দাবি করে আসছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সীমান্তে মাদক পাচার ও চোরাচালান রোধে র‌্যাব নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে। সীমান্তে অপরাধ শূন্যে নামাতে র‌্যাব প্রতিনিয়ত কাজ করছে।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাতক্ষীরা একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় পুলিশ এবং বিজিবি ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চোরাচালান বন্ধ এবং সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কঠোর। সীমান্তে যাতে কোনো ধরনের হত্যাকা- না ঘটে সেদিকে আমাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ৩৭ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২৪ জন গুলিতে এবং ১০ জন নির্যাতনের কারণে মারা যান। আগের বছরের হিসাবে ২০২৪ সালে ৩০, ২০২৩ সালে ৩১, ২০২২ সালে ২৩ এবং ২০২১ সালে ১৮ জন নিহত হন। এ ছাড়া ২০২৫ সালে সিলেট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয়দের, বিশেষ করে খাসি জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে অন্তত ১২ জন বাংলাদেশি নিহত হন বলে জানা গেছে। আসকের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরে আরও অন্তত ৩৮ জন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ বা নির্যাতনের শিকার হন এবং ১৪ জনকে বিএসএফ অপহরণ করে, যাদের মধ্যে মাত্র চারজনকে ফেরত পাঠানো হয়। বিএসএফের ‘শুট অন সাইট’ (দেখামাত্র গুলির) নীতি এবং গবাদি পশু চোরাচালান বা অবৈধ সীমান্ত পারাপারের অভিযোগে এই হত্যাকা-গুলো ঘটছে। ২০২৬-এর ১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৫৫তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা কমানো ও বেড়া নির্মাণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ বারবার সতর্ক করেছে যে, বিএসএফের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে ভারতের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারকে পরাজিত করার পর নতুন সরকার দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলকাতা হাইকোর্ট সীমান্তবর্তী ৯টি জেলায় বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না, সরকারও ভয় পায় না।’ এই বক্তব্য মূলত একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তাÑ বাংলাদেশ সীমান্ত রাজনীতিকে ভয় বা চাপের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং সার্বভৌম মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে দেখতে চায়। একই সঙ্গে এ প্রতিক্রিয়ায় একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক ইঙ্গিতও রয়েছে।