ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ  রায়

২৯ কার্যদিবসে  ধর্ষকের প্রাণদণ্ড 

মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ১২:৩৬ এএম

মেহেরপুরে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় শাকিল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন জেলা শিশু সহিংসতা দমন আদালত। সেই সঙ্গে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন বছরের কারাদ-াদেশ দিয়েছেন আদালত। 

গতকাল রোববার দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর জেলা শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দ-প্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের ছেলে।

ফাঁসির রায়ের খবর জানিয়ে মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ‘সাক্ষ্য, প্রমাণ এবং মেডিকেল পরীক্ষায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ধর্ষক শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদ-, ৩ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ-ের আদেশ দেন। জরিমানার টাকা ধর্ষকের স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থ আদালতের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবারকে পরিশোধের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র ২৯ কার্যদিবসে রায় দেওয়া হলো। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দূরের সাক্ষীদের ভার্চুয়াল সাক্ষ্য নেওয়া হয়। মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। ২৯ কার্যদিবসের মধ্য সশরীরে ও ভার্চুয়াল ভিডিও কলের মাধ্যমে তিন দিনে সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন হয়।’

আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক প্রসিকিটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন। মৃত্যুদ-ের রায়ে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার খুশি হয়েছে। দ-প্রাপ্ত শাকিল হোসেনের আইনজীবী উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা বলেছেন। 

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া শিশুটি তার বাবাকে বাড়ির পাশের মাঠে খাবার দিতে যাওয়ার সময় শাকিল হোসেন তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পাটখেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে বাবা ইছানুল হক গাংনি থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ধর্ষককে আটক করে কারাগারে পাঠায়। আদালত ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ষণ মামলায় ১১ জন সাক্ষীর ভার্চুয়ালি ভিডিও কলে ও সশরীরে সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ধর্ষক শাকিব হোসেনকে আদালত মৃত্যুদ-ের আদেশ দেন।