কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী মেম্বারকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তিনি বেঁচে গেলও অন্য দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলসহ তিনজনকে আটক করেছে।
গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন মহিউদ্দিন ও রনি। তারা স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
লিয়াকত আলী বলেন, ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ায় গুলি করে ও কুপিয়ে তাকে হত্যাচেষ্টা করেছিল স্থানীয় একটি বাহিনী। রোববার আদালত প্রাঙ্গণে ওই বাহিনীর সন্ত্রাসী খালেদ, শাহাবুদ্দীন, কুতুবউদ্দিনসহ কয়েকজন তাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার সহযোগীদের নিয়ে একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। আদালত এলাকায় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। ঘটনার পরপরই পুলিশ আদালত চত্বর ঘিরে ফেলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশে তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, আদালত প্রাঙ্গণে গুলি করে পালানোর সময় জিয়াউল হককে (৩৭) আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। অপর অস্ত্রধারীদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।

