ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সাগর-রুনি হত্যা : তদন্তের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ পরিবার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৫:৩২ এএম

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তাদের পরিবার। মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের রোমান বলেছেন, তদন্তের হালনাগাদ তথ্য না থাকায় নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, যা পরিবারকে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর যেসব সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তাদের অনেককেই এখন ‘খুঁজে’ পাওয়া যাচ্ছে না; যা তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সাগর-রুনির ছেলে মেঘ ও নওশের রোমান গতকাল বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ও তাদের আইনজীবী শিশির মনিরের সঙ্গে দেখা করেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তদন্তের অগ্রগতি না থাকায় হতাশার কথা বলেন রুনির ভাই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মামলার অগ্রগতির আশা করলেও তা পূরণ হয়নি বলে আক্ষেপ করেন নওশের রোমান। তিনি বলেন, ১৪ বছর ধরে আমরা বিচার চাইছি। আগে অন্তত এক মাস পর পর আদালতে অগ্রগতির খবর পাওয়া যেত, এখন ছয় মাস পর পর সময় দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছে সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণাই নেই। তদন্তের হালনাগাদ তথ্য না থাকায় নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, যা পরিবারকে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

তদন্তের ধীরগতি নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, তদন্তকারী সংস্থাকে কিছু বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ঘটনার পরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর যেসব সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তাদের অনেককেই এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ১৫ বছর আগের একটি ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি, আলামত ও ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা নতুন করে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তবে মামলার ভবিষ্যৎ বা তদন্ত সফল হবে কি নাÑ এমন প্রশ্নে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, তিনি শুধু তদন্তকারী সংস্থার তুলে ধরা ‘বাস্তব পরিস্থিতিই’ বর্ণনা করছেন। পরিবারের উদ্বেগ ও হতাশার বিষয়টি তিনি তদন্তকারীদের জানাবেন।

এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এরই মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আগামী ৭ জুন হাইকোর্ট খুললে সেই প্রতিবেদন দেখার জন্য আবেদন করা হবে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বহুল আলোচিত ওই হত্যাকা-ের ১৪ বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। সর্বশেষ গত ৭ মে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিজুল হক প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। ফলে ১২৬ বারের মতো পেছায় বহুল আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ। আদালত আগামী ১৮ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমার নতুন দিন ধার্য করেছিলেন।