শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ঢাকা গড়তে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের ছুটিা সময় রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা, নাশকতা কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকা- ঘটেনি। পশুর হাট, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশন, শপিংমল, আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ঈদের জামাতস্থল, আবাসিক এলাকা এবং ফাঁকা বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির সব ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করেছে। কমিশনার বলেন, ডিএমপির বিশেষ অভিযানে ১ মে থেকে ২ জুন ডিএমপির অপারেশনাল ইউনিটসমূহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৬৫৮ জন চাঁদাবাজ, ৯৭১ জন ছিনতাইকারী/ডাকাত/সন্ত্রাসী ও ১ হাজার ২১৫ জন মাদক কারবারিসহ মোট ২ হাজার ৮৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া অভিযানে ছয়টি দেশি-বিদেশি পিস্তল, ২১ রাউন্ড গুলি, চারটি ম্যাগাজিন, ১১টি ককটেল ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ১২টি উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও বলেন, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় ডিএমপির বিশেষ অভিযানে ঈদের ছুটিতে অর্থাৎ, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত প্রায় জনশূন্য রাজধানীর নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকা- নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক বর্ধিত টহল, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট, অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি এবং সিসিটিভিসহ প্রযুক্তিগত মনিটরিং অব্যাহত রাখা হয়। ফলে ঈদের ছুটির সাত দিনে আড়াই থেকে তিন কোটি মানুষের এই মেগাসিটিতে কোনো ডাকাতি কিংবা চাঞ্চল্যকর কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি, তবে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি চুরি, ছিনতাই/দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে।
শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের আসামি যে অন্য ব্যক্তির নাম বলার চেষ্টা করেছে বা বলেছে, আমাদের ধারণা, আসলে বিচার প্রক্রিয়া প্রলম্বিত করার জন্য তারা হয়তো বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে আমরা চার্জশিট দিয়েছি, তাদের বাইরে আর কারো ইমপ্লিকেশন বা জড়িত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কমিশনার বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ এবং হত্যাকা-ের ঘটনায় সাত ঘণ্টার মধ্যে আমরা আসামি গ্রেপ্তার করেছি এবং আসামি ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এই মামলা রুজু হওয়ার ষষ্ঠতম দিনেই আমরা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছি।

