ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

শৈলকুপায় পৃথক সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৬:২৪ এএম

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তার ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পৃথক দুটি সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার উমেদপুর ও দিগনগর ইউনিয়নে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে এক যুবকের কান শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বিএলকে এলাকায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ও বর্তমান ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রসহ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আব্বাস ম-ল, অংকন, রবিউল হোসেন, তাসিম শেখ, গিয়াস উদ্দিন, হাবিব মোল্লা, সাকিব হোসেন, লিয়াকত আলী, আকিজ মোল্লা, আনিচ মোল্লা, সানজু, আব্দুল কাদের, মোশারফ হোসেন, খায়রুল ইসলাম ও সাহিদুর ইসলামসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান দাবি করেন, কফিল উদ্দিনের সমর্থকেরা প্রথমে তার পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায়। অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ করে ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিন বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে মতিয়ার রহমানের সমর্থকেরাই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।

এদিকে একই দিনে উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের শিংনগর গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আরেকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আলামিন ও হাসানুর রহমানসহ পাঁচজন আহত হন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে গুরুতর আহত আলামিনের একটি কান প্রতিপক্ষ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) শাকিল আহমেদ জানান, উমেদপুর ইউনিয়নের বিএলকে এলাকায় সামাজিক বিরোধ ও দিগনগরে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উভয় ঘটনার বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার পর উভয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে।