ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

মেয়ের মৃত্যুর খবরে পরিবার খুঁজে পেল মা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৬:২৩ এএম

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের হামলায় নিহত শিশু ফাতেমার মা ফজিলা বেগম (৩৫) দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর তার পরিবারকে ফিরে পেয়েছেন। ফাতেমার মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ফজিলার পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করতে বাগেরহাটে ছুটে আসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফজিলার মা, ভাই ও সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্য মাজার এলাকায় উপস্থিত হন। পরে মাজার কর্তৃপক্ষ তাদের বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে পাঠান।

সেখানে উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং পরিচয় নিশ্চিত করার পর মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলাকে তার পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফজিলা বেগম প্রায় তিন বছর আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তার সংসারে দুই ছেলে ও তিন মেয়েসহ মোট পাঁচ সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি কুমিরের হামলায় নিহত শিশু ফাতেমা ছিল তার সবচেয়ে ছোট সন্তান।

ফজিলার ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, ‘প্রায় তিন বছর আগে আমার বোন হারিয়ে গিয়েছিল। আজ (গতকাল) তাকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত। তবে আমার ছোট ভাগ্নি ফাতেমার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর কষ্ট আমাদের চরম বেদনার মধ্যে রেখেছে।’

ফজিলার মা হাজরা খাতুন বলেন, ‘আমার মেয়েকে ফিরে পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। যদি আমার নাতনি ফাতেমাকেও জীবিত ও সুস্থভাবে পেতাম, তাহলে খুশি আরও বেশি হতো।’

এদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম স্বাভাবিকভাবে গুছিয়ে কথা বলতে না পারলেও অবুঝের মতো বারবার একটি কথাই বলার চেষ্টা করছেন, ‘আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না।’ তার এই আকুতি মাজার এলাকা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত সবার চোখ ভিজিয়ে দেয়।

ইউএনও মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ফজিলার পরিবারের সদস্যরা সকালে যোগাযোগের পর সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং সদর মডেল থানার ওসির উপস্থিতিতে পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।