সব ধরনের গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পর কমানো হলো লাইফলাইন (সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী) (০-৫০/০-৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম। ফলে পূর্বের দামেই এখনো বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন এ স্ল্যাবের গ্রাহকরা। ফলে দেশের প্রায় ২ কোটি গ্রাহককে আপাতত বিদ্যুতের বাড়তি দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে লাইফলাইন গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন সমিতিগুলোতেই রয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি সংযোগ।
গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন এ মূল্যহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঘোষণায় বলা হয়, সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা/কোম্পানির আবাসিক গ্রাহক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত লাইফলাইনের (০-৫০ ইউনিট) এনার্জি রেট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) এনার্জি রেট ৫ টাকা ২৬ পয়সা বিল জুন মাস থেকে কার্যকর থাকবে।
এর আগে একইদিন সকালে লাইফলাইন গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে নতুন ট্যারিফ পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি’র কাছে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রান্তিক ও নি¤œ আয়ের গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এতে বলা হয়, গ্রাহকদের জন্য ঘোষিত নতুন মূল্যহার সরকারের সামাজিক সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গণশুনানি শেষে বিইআরসি বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা ট্যারিফ পুনর্নিধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য বিশেষ মূল্যহারের প্রতিফলন নতুন ট্যারিফে ঘটেনি।
গত বুধবার ঘোষিত নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী, আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়। শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা এই শ্রেণির আওতাভুক্ত। এতে প্রতি ইউনিটে ৬৯ পয়সা বা প্রায় ১৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন দামে শুধু বিদ্যুতের ইউনিট মূল্যই নয়, গ্রাহকদের ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরিশোধ করতে হয়। ফলে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী একজন লাইফলাইন গ্রাহকের মাসিক বিল গড়ে প্রায় ৩৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি নি¤œবিত্ত ও নি¤œ-মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয়ের চাপ বাড়াবে এবং তাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ কারণে পিডিবির গত ৩ মে পাঠানো প্রস্তাবের আলোকে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য ট্যারিফ পুননির্ধারণ করতে বিইআরসিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নতুন ট্যারিফ ঘোষণার সময় বিইআরসি জানায়, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ খুচরা বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা বা ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, প্রান্তিক গ্রাহকদের স্বার্থ ও সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি দ্রুত লাইফলাইন ট্যারিফ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেবে। এতে নি¤œ আয়ের কোটি কোটি গ্রাহক কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

