ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬

চলছে পুশ ইন চেষ্টা, রুখছে বাংলাদেশ

মোস্তাফিজুর রহমান সুমন
প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৫:৫৪ এএম

দেশের সীমান্ত জুড়ে পুশ ইন চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। প্রতিবেশী দেশটির নাগরিকদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জোর করে ঢেলে দেওয়ার এই অনিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টা ধারাবাহিকভাবে রুখে দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ভারত সরকারের অনবরত আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের এমন অপচেষ্টায় বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। তারপরও ভারতের কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ও সীমান্তবর্তী বিজেপির রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীদের দিয়ে অবৈধভাবে সেদেশের সাধারণ নাগরিকদের আটক করে গোপনে ও জোর করে পুশ ইনের চেষ্টা চলছে।

তথ্য অনুসারে, সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইনের বিএসএফের ১০টি পৃথক অপচেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি এই কড়া অবস্থান গ্রহণ করে। পাশাপাশি কোস্ট গার্ডসহ অন্যান্য বাহিনী ভারতের অবৈধ পুশ ইন চেষ্টা রুখতে সীমান্তজুড়ে অঘোষিত রেড অ্যালার্ট জারি করেছে এবং ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বাড়িয়ে বিএসএফের পুশ ইন বন্ধে কাজ করছে। সরকারের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পুশ ইন ঠেকাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা রয়েছে। এক্ষেত্রে দেশের সীমান্তরক্ষীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে ভারত সরকারকে পুশ ইন বন্ধে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

পুশ ইনের আশঙ্কায় সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে বিজিবি। সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

হঠাৎ করেই পুশ ইনের এই ব্যাপক অপচেষ্টা দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।  সম্প্রতি ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ভারত থেকে ‘পুশ ইন’ বা অবৈধভাবে লোকজন ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশ উপযুক্ত পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানাচ্ছে, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি যেকোনো পুশ ইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্তে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গত সোমবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়া প্রতিহত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যে উদ্যোগ নিচ্ছে, তা অব্যাহত রাখবে। ওনাদের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পরে, নতুন সরকার আসার পরে যতবার ভারতের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তারা ইতিবাচক কথা বলেছে যে, পুশ ইন তারা করবে না এবং অন্য যেসব জটিলতা তাদের সঙ্গে আমাদের হচ্ছে, ভিসাসহ অন্যান্য ব্যাপারে, তারা ইতিবাচকদের সাড়া দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পুশ ইনসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ‘পুশ ইন’ বলতে কোনো রাষ্ট্র কর্তৃক জোরপূর্বক বা অবৈধভাবে তার ভূখ-ে থাকা কোনো নাগরিক বা অনুপ্রবেশকারীকে পার্শ্ববর্তী অন্য কোনো দেশে ঠেলে দেওয়া বা প্রবেশ করানোকে বোঝায়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এই শব্দটি বহুল ব্যবহৃত হয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য (যেমন আসাম, পশ্চিমবঙ্গ বা অন্যান্য স্থান) থেকে অবৈধভাবে বসবাসকারী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে আসা হয়। এরপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জোর করে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে এ ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ ইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করে থাকে। এর ফলে অনেক সময় সীমান্তে চরম উত্তেজনা দেখা দেয় এবং নারী-শিশুরা শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করে।

ভারতের হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই মাসের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তারা নথিপত্রহীন অভিবাসীদের ‘শনাক্ত, বাদ ও ফেরত’ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই তাড়াহুড়া অভিবাসী সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে স্পষ্ট করে তুলেছে, যাদের অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভারত সরকারের জোরপূর্বক বহিষ্কার ও সীমিত আইনি সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে।

ভারতের অনেকেই এখন এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একদিকে ভারত ছাড়তে চাপ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ ছাড়া বাংলাদেশ তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। উপায়হীন অনেকেই মরিয়া হয়ে নদী পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছেন। যদিও দলে দলে এভাবে ভারত ছাড়ার প্রকৃত সংখ্যা বা পরিধি এখনো অস্পষ্ট। গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাসহ ‘আটক বিদেশিদের’ জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। এটি রাজ্যের প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মুসলিমের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতে নির্বাচনি মৌসুমে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার প্রায়শই ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুতে ভোটের রাজনীতি করে। চলতি বছরও নানা নির্বাচনি প্রচারে এই তকমা ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই সেদেশের নাগরিকদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দিল্লি পুলিশ বৃহৎ অভিযান চালিয়েছে। এ বছর ফেরত পাঠানো সংখ্যা ২০২৪, ২০২৩ বা ২০২২ সালের তুলনায় অনেক বেশি।

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়া ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশের সঙ্গে এখনো অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ইস্যুটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বেশ আলোচিত ও বিতর্কিত একটি বিষয় হয়ে এত দিন ঝুলে ছিল। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারেও বিজেপি ইস্যুটি নিয়ে সরব ছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সরকারকে হটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গড়েছে হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শুভেন্দু। সরকার গড়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই তিনি সীমান্তে বিএসএফকে জমি দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলকাতা হাইকোর্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য সরকারকে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ৯টি জেলায় বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন আদালত।

বিজিবির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা লঙ্ঘন করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক সেদেশের নাগরিকদের আটকের পর সীমান্তে জড়োর করার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর বিজিবি সতর্ক অবস্থান নেয়। লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, সিলেট ও নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন সীমান্তে গত বেশ কয়েকদিন ধরে বিএসএফ পুশ ইন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার অধিকাংশ ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয়রা।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সম্ভাব্য পুশ ইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু কিছু এলাকায় অবৈধভাবে পুশ ইন করা ব্যক্তিদের পুশ ব্যাক করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে। সীমান্তে পুশ ইন রুখতে এবং দেশের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশের প্রয়োজনে বিজিবি নিবেদিত।

প্রতিরোধে সীমান্তে তৎপর কোস্ট গার্ড : সীমান্ত দিয়ে ‘পুশ ইন’ ঠেকাতে তৎপরতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী উপকূলীয় ও নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোতে টহল জোরদারের পাশাপাশি নজরদারি কার্যক্রমও বৃদ্ধি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আওতাধীন সীমান্তবর্তী এলাকার সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সর্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম ও নজরদারি জোরদার করেছে। কোস্ট গার্ডের দায়িত্বপূর্ণ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো পুশ ইনের ঘটনা পরিলক্ষিত হয়নি।

লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা : লালমনিরহাট সীমান্তের পৃথক তিনটি পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। গতকাল শুক্রবার ভোরে জেলার হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি ও সীমান্তবাসী জানান, হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ১১ জন, পাটগ্রাম উপজেলার পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি এলাকায় ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর দীঘলটারী সীমান্ত এলাকায় আরও ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্তে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। গ্রামবাসীর সহায়তায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২৮ জন এখনো শূন্যরেখায় : চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দ্বারা পুশ ইনের চেষ্টার পর ২৮ জন ব্যক্তি এখনো সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাদের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বিএসএফ।

নওগাঁর ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, গত বুধবার রাত ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৬-এস নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে। এ সময় বাঙ্গাবাড়ি বিওপির বিজিবি টহল দল তাদের বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। এই ২৮ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ শিশু রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছিল বিষয়টি তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে। এরপর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিজিবিকে জানানো হবে। তবে আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বর্তমানে ওই ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।

নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা : নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি তারা। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) সূত্র জানায়, সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ভারতের ৮৮ বিএসএফ পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে হাঁপানিয়া বিওপির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের ভারতীয় শূন্যরেখার অভ্যন্তরে অবস্থানরত অবস্থায় শনাক্ত করে। ওই ১৭ জনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, ছয়জন নারী ও পাঁচজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পুশ ইনের খবর পাওয়ার পর ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদের ভারতীয় ভূখ-ে পাঠানোর (পুশ ব্যাক) কার্যক্রম চলছে।