ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

হাম সন্দেহে আরও সাত শিশুর মৃত্যু

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৫:০১ এএম

প্রতিদিনই বাড়াছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। হামের সংক্রমণে এবং উপসর্গে মারা যাচ্ছে একাধিক শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায়ই হাম সন্দেহে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬২০ জনে। এদিকে বৃষ্টির মৌসুম আসন্ন। এ সময়টায় ডেঙ্গু রোগী বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে সামনের দিনগুলোয় হাসপাতালগুলোকে সামনে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো হামবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ২২১ এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৭৯ হাজার ১২। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৬৬, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৬৮৬। এ সময়টায় সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৪ হাজার ২৬৩ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা আশংকাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন হাজারো হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হতে দেখা যাচ্ছে। তবে বিশেষ উদ্যোগ নিলেই হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানো সম্ভব। সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালে রোগী আসছে, ভর্তিও হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে হামের মতো সংক্রামক রোগের জন্য নির্ধারিত শয্যার চেয়ে রোগী বেশি।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অনেক হাসপাতালের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। হামের বিষয়ে কোন হাসপাতালে কত রোগী আছে, কত শয্যা খালি, আইসিইউ খালি আছে কি নাÑ এসব তথ্য সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রকাশ করে না। অথচ কোভিড ১৯ মহামারির সময় এসব তথ্য দেওয়া হতো, যা রোগী ব্যবস্থাপনার জন্য দরকার। এতে করে একটি শিশু হামে আক্রান্ত হলে অন্য শিশুরও আক্রান্তের শংকা থেকে যায়। এ ব্যাপারে সরকারের সচেতনতা কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।