আর মাত্র তিন দিন। এরপরই শুরু হতে যাচ্ছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ অর্থাৎ ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬’। এবার যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসছে ফুটবলের এই জমজমাট আসর। অংশ নিচ্ছে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ। ১১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে। অংশ নেবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ১০৩টি ম্যাচে জয়-পরাজয় ও নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ১০৪ নম্বর ম্যাচটি হবে ফাইনাল। আগামী ১৯ জুলাই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
এবার বিশ^কাপের অন্যতম আলোচনায় রয়েছেন পর্তুগালের ‘ম্যাজিক ম্যান’ ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিশ^ ফুটবলের অনেক পদক তার ঝুলিতে থাকলেও এ পর্যন্ত মেলেনি বিশ^কাপের দেখা। সেই আক্ষেপে তাকে পুড়তে দেখা গেছে গত বিশ^কাপেই। এখন তার বয়স ৪১, সুতরাং হিসাব অনুসারে পরের বিশ^কাপে আর দেখা যাবে না ‘সিআরসেভেন’কে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, রোনালদো ছাড়া কি পর্তুগাল বেশি শক্তিশালী, নাকি রোনালদোসহ?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অতীত থেকেই শুরু করা যাক। ২০০৩ সালের ২০ আগস্ট কাজাখস্তানের বিপক্ষে এক জীর্ণ মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ আসর খেলতে নামছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ (১৪৩টি গোল) এই গোলদাতা। একসময়ের রোগা তরুণটি আজ পর্তুগিজ ফুটবলের মানসিকতা ও ইতিহাস একাই বদলে দিয়েছেন।
তবে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে দেশের মাটিতে তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা তীব্র হয়েছে। সাবেক তারকা অ্যান্টোনিও সিমোয়েসের মতে, রোনালদো এখন দলগত জয়ের চেয়ে নিজে প্রধান চরিত্র হওয়ার জন্য বেশি খেলেন। যদিও পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেস এই সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে তার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (৩১ ম্যাচে ২৫ গোল) মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, রোনালদো অতীতে কী করেছেন তার জন্য নয়, বরং এখনো সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করছেন বলেই দলে আছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, সম্প্রতি রোনালদোবিহীন ম্যাচগুলোতে পর্তুগাল সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে। যেমন লুক্সেমবার্গকে ৯-০ এবং আর্মেনিয়াকে ৯-১ গোলে হারানো। বিশ্লেষক সোফিয়া অলিভিয়েরা স্পষ্ট বলেন, বিশ্বকাপ জিততে চাওয়া কোনো দলের মূল একাদশে থাকার মতো ফুটবল আর রোনালদোর পায়ে নেই। তবে সাবেক তারকা আবেল জাভিয়ের ও রিকার্দোর মতে, গতি কিছুটা কমলেও রোনালদোর অভিজ্ঞতা ও মানসিক শক্তি তরুণদের জন্য এখনো এক বিধ্বংসী অস্ত্র।
রোনালদোর মতো মহাতারকাকে সামলানো কতটা কঠিন, তা ২০২২ বিশ্বকাপে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে চাকরি হারানো সাবেক কোচ ফার্নান্দো সান্তোস ভালোই জানেন। তবে বর্তমান কোচ মার্তিনেস এমন পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছেন না। এমনকি জাতীয় দলে রোনালদোর বিপুল প্রভাব এবং তার ব্যবসার সঙ্গে ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) চুক্তি নিয়েও নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রোনালদোর ক্যারিয়ারের এই গোধূলিলগ্নে এখন বড় প্রশ্নÑ পর্তুগাল কি তার পরবর্তী যুগের জন্য প্রস্তুত? এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রুয়েন্সা নিশ্চিত করেছেন, কোনো নাটকীয়তা ছাড়াই তারা ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং রোনালদোর বিদায়ের পর আর্থিক বা কৌশলগত কোনো সংকটে পড়বে না ফেডারেশন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্তুগিজ ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সামনে এখন শেষবারের মতো বিশ্বজয়ের মঞ্চ তৈরি।

