ছয় দিনের সরকারি সফরে আজ রোববার মালয়েশিয়া ও চীনের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের প্রথম ধাপে তিনি ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর ২৩ জুন কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি চীন সফরে যাবেন। সফর শেষে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে।
গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। খবর বাসসের। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া সফরকালে তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ সরকারের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় অর্থায়নের প্রস্তাব প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। একটা ‘স্টাডি’ হয়েছে, আমরা সেই বেশকিছু আগে, সেই ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’টা আমরা ‘রিভিজিট’ করেছি। কিন্তু ‘রিভিজিট’ করার পর, আবার যেটা বললাম ‘রিজার্ভার, ড্যামেজ সাইজ’Ñ এগুলো আসলে তারপর সব আলোচনা হবে। সুতরাং এই পর্যায়ে আমরা সেই ‘স্টেজে’ নাই।’’
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশ এখন থেকে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিজস্বভাবে নেবে এবং কোন দেশ কখন সফর করা হবে, তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, সরকার এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বাস্তব প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, কোনো বাহ্যিক চাপ বা প্রত্যাশার কারণে নয়। তিনি বলেন, আমরা কোন দেশে যাব, তা নির্ধারণ করব তখনই, যখন আমরা মনে করব সেখানে যাওয়া প্রয়োজনÑ দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। এরপর কাল সোমবার বিকেলে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে যাবেন।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ‘চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। তিনি জানান, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। দুই সফরেই প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এটিকে যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
এ ছাড়া, ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন।
‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ ফোরামে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।
সফরে মালয়েশিয়া পর্বে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে, চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ এবং উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়) এ কে এম শহিদুল করিমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন