প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত খুলবে বলে আশার কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীর অবমাননায় কঠোর হচ্ছে সরকার।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে মাঠে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, তারা সিম্বোলিক কারণে আছেন। আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল। নিষিদ্ধ ঘোষিত কথাটা আসলে ঠিক না। আমরা যদি টেকনিক্যালি বলি, আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
তিনি বলেন, তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেটা বিচারের পর নির্ধারিত হবে। যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত তারা বিচারাধীন থাকবে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে। এই দল যদি মাঠে কোনো কর্মসূচি নিয়ে নামতে চায়, সেটা আইন ভঙ্গকারী কার্যক্রম হবে। সরকার সেটার ব্যবস্থা নেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই। আমি মনে করি না আওয়ামী লীগের কিছু করার নৈতিক সাহস আছে। একটা কিছু করতে গেলে নৈতিক সাহস লাগে। আমরা বলি না, চোরের মায়ের বড় গলা। সবার ডিমেনশিয়া হবে, মানে সবাই সবকিছু ভুলে যাবে আরকি! তারপর আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে। এর আগে আমার মনে হয় না। তাদের সেই নৈতিক সাহস নেই। কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।’
প্রধানমন্ত্রী সফরের পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার খুলছে কি না, জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, এই ব্যাপারটা আসলে আমার পক্ষে জবাব দেওয়া কঠিন। এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেবে। কারণ তারা মিটিংয়ে ছিল। কিন্তু আমরা এখান থেকে যেটা বুঝতে পারছি, এই ব্যাপারটা ভালোভাবে আলোচনা হয়েছে এবং আমি কিছু ব্যক্তিগত কথাবার্তার ক্ষেত্রে খেয়াল করেছি, আমার কাছে মনে হলো, আমি এটা আবারও বলছি, খুব নিশ্চিতভাবে বলছি নাÑ এটা খুব দ্রুতই উন্মুক্ত হবে। আমরা এটা আশা করতে পারি, নিশ্চয়ই।
গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকার তাড়াহুড়ো করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, এ বিষয়ে আগে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও সেটির সব সুপারিশের সঙ্গে সরকার শতভাগ একমত নয়। আরও বিস্তৃত আলোচনা ও নতুন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে সময় নেওয়া হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সরাসরি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল না। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, শিশু, নারী ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীর অবমাননায় কঠোর হচ্ছে সরকার
প্রধানমন্ত্রীর মেয়েকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হচ্ছে, এটি তার পোস্ট ছিল না। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো একটা ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বলেছে, তার মানে এটা সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তা না। আবার অন্যভাবে নেবেন না প্লিজ! ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব আমাদের সমাজে এখন তৈরি হয়েছে। কিন্তু একটা রাষ্ট্র কাজ করবে তার মতো করে। আপনি যে কথাটা বললেন, এটা যদি সত্য হয়, একটা রাষ্ট্র কারো ওপরে কোনো অন্যায়-অবিচার করবে না। কোনোভাবেই করবে না। যে ছাত্রের কথা বলছেন, এটা যদি এরকম হয়ে থাকে যে এটা আসলেই এডিট করা ছিল, এখন কেউ একজন বলেছে, সেটাকে ভিত্তি করে আসলে রাষ্ট্র কাজ করবে না। এটা মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রের মেকানিজম আছে, সেটা চেক করার মতো এক্সপার্টিজ আছে। এই যে স্ক্রিনশটের কথা বলছেন, সেটা যদি ফেইক হয়ে থাকে, সেটাকে দেখে সেটার ভিত্তিতে কাজ করে ব্যবস্থা নেবে। এতে কোনো রকম কোনো সমস্যার কিছু নাই।’
সারওয়ার আলমের বদলি নিয়ে যা জানালেন উপদেষ্টা
সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে বদলির বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বলা হচ্ছে, মাজারের অর্থের স্বচ্ছতা আনার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে তাকে বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মাজারে তার একটা পদক্ষেপকে রিলেট করার কথা বলছেন। এটা কেউ কেউ করছে অনলাইনে। এটাকে আমরা এভাবে কেন বলব? মানে ঘটনাটা এটার পরে ঘটেছে বলে এ ধরনের একটা পারসেপশন তৈরির চেষ্টা হয়তো আছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মাজারগুলোতে কী হয়, কেমনভাবে হয়Ñ এটা নিয়েও একটা গ্রুপ আছে, যারা ইভেন আমরা ইন্টারিমের সময়ে দেখেছি রীতিমতো মাজারে হামলা হয়েছে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। তো একটা গোষ্ঠীও আছে, যারা এটাকে এভাবে ফ্রেম করতে চেষ্টা করবে। সরকারের ট্রান্সপারেন্সি যেমন থাকবে, সরকার তার জুরিসডিকশনের মধ্যে করা কিছু কাজ সব সময় আসলে তার জায়গা থেকে ব্যাখ্যাও দেবে না। এটাই নিয়ম। কিছু রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা থাকতে পারে। আর এই ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বলাই হয়েছে, বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এর বেশি আসলে আর কিছু বলার থাকবে না।’

