’২৪ এর জুলাই গণঅভুত্থানের নেতা ও ‘মাস্টারমাইন্ড’ কেÑ এমন প্রশ্নে জাতীয় সংসদে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য তুলে ধরেছেন সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আন্দোলনের নায়ক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অপরদিকে জামায়াত বলেছে, এ আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড নেই; এর কৃতিত্ব বাংলাদেশের জনগণ ও তরুণদের। যদিও গণঅভুত্থানের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সমন্বয়ক মাহফুজ আলমকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেন। তবে মাহফুজ পরবর্তীতে এ দাবি নাকচ করেন।
এদিকে গতকাল রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম কার্যদিবসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে দুই দফা বিতর্ক হয়।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তারেক রহমান দূর থেকে কার্যকর নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতার আগের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি দাবি করেন, তারেক রহমানই আন্দোলনের প্রধান নায়ক।
এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড নেই। তার ভাষায়, এই অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ ও দেশের যুবসমাজের।
গতকাল দুপুরের বিরতির পর অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক বিষয়টি আবারও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ডা. শফিকুর রহমান নিজেই অতীতে এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমানকে জুলাই আন্দোলনের ‘মহানায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাই প্রতিমন্ত্রী মিল্লাতের বক্তব্য সঠিক এবং তা সংসদের কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটি ২০২৪ সালের আগস্টের পর নয়; তারও আগে একটি ইফতার মাহফিলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং তখন যাদের ভূমিকা ছিল, তাদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস বিদেশ সফরে একজনকে আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করলে তিনিই প্রথম এর প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি বলেন, আগেও বলেছি, এখনো বলছিÑ এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড নেই।
এর আগে গতকাল সকালে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে এবং সে কারণেই তিনি আন্দোলনের প্রধান নায়ক বলে মনে করেন। তার বক্তব্যের পরই বিষয়টি নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও সরকার পতনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে মাহফুজ আলমকে পরিচয় করিয়ে দেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের ফাঁকে ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ লিডারস স্টেজ’ অনুষ্ঠানে যোগ দেন ড. ইউনূস। অনুষ্ঠানের মঞ্চে তিনি তার দীর্ঘদিনের বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলার ফাঁকে তিনজনকে পরিচয় করিয়ে দেন। তবে মাহফুজ পরবর্তীতে এ বক্তব্যকে নাকচ করেন। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে একক কোনো মাস্টারমাইন্ড’ ছিল না।

