ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস

টার্গেট বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৩:১৭ এএম

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে এ বাজেট কার্যকর হবে। তিন সপ্তাহের আলোচনা, সমালোচনা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর পর কণ্ঠভোটে গতকাল মঙ্গলবার বাজেটটি পাস হয়। বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেটে মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলার একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। একটি বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এ বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য, যা বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার অর্থবিলে মোট ৬৮টি সংশোধনী আনা হয়েছে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর সংসদ সদস্যরা টানা তিন সপ্তাহ বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা করনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনা করেন।

বাজেট পাসের আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমাপনী বক্তব্যে বলেন, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজেট আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, স্বতন্ত্র সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এর আগে গত সোমবার সংসদে অর্থ বিল, ২০২৬ পাস হয়। এর মাধ্যমে শুল্ক-করের পরিবর্তনগুলো কার্যকর করা হয়। এই বিলে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা। এ ছাড়া জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে প্রস্তাবিত বিতর্কিত বিধান পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগে নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে জমি বা ফ্ল্যাট নিবন্ধনের সুযোগ সীমিত করার প্রস্তাব ছিল। একই সঙ্গে তিনটি খাতে প্রস্তাবিত নতুন ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত থেকেও সরকার সরে এসেছে। এসব সংশোধনী অর্থবিলে অন্তর্ভুক্ত করে সংসদে পাস করা হয় গত সোমবার।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হয়। বাজেট পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। দাবিগুলো কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা মোট ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে কণ্ঠভোটে সব প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। পরে নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। পাস হওয়া বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এবারের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এবারের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

নির্দিষ্টকরণ বিলের মাধ্যমে পাস হলো নতুন বছরের বাজেট

নির্দিষ্টকরণ বিলের তপশিল অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি অর্থ রাখা হয়েছে অর্থ বিভাগের জন্য। এ খাতে দায়যুক্ত ব্যয় ও সংসদে ভোটে গৃহীত মঞ্জুরি মিলিয়ে মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৫১ কোটি ৯৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্দিষ্টকরণ বিল উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অন্যান্য মঞ্জুরি দাবিগুলো উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। আর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন। এর আগে গত সোমবার বেশ কিছু সংশোধনী এনে অর্থ বিল ২০২৬ পাস করা হয়।

গত বছরের তুলনায় ১৮.৭৩ শতাংশ বেড়েছে বাজেট

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাবে এবার বাজেটে যোগ হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা, শতকরা হিসাবে চলতি বাজেটের তুলনায় যা ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। এটি ইতিহাসের রেকর্ড বৃদ্ধি। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা, যা এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাজেটে রাজস্ব খাত থেকে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বাজেটে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো আগামীতেও বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে বিদেশি উৎস থেকে ৪৬ শতাংশ অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে; যা জিডিপির ১ দশমিক ৭ শতাংশ। বাজেট ঘাটতির ৫৪ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো যা বরাদ্দ পেল

মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর জন্য বরাদ্দগুলো হলোÑ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় : ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, জাতীয় সংসদ ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ৩ হাজার ৮৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১০৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ২৯১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ৪ হাজার ৪০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৫ হাজার ৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ১৩৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, অর্থ বিভাগ ৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৫১ কোটি ৯৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ৩৭৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ৪ হাজার ৬৫৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ৩ হাজার ৫৬৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ৬৯ হাজার ২৪৮ কোটি ৯০ লাখ ৬২ হাজার টাকা, পরিকল্পনা বিভাগ ৩৬ হাজার ২৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ ২৩১ কোটি টাকা, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৬৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ৪৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা, আইন ও বিচার বিভাগ ২ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩১ হাজার ০৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ ৪৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৮ হাজার ১১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২ হাজার ৪৯ কোটি ২ লাখ টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৩০ হাজার ৪৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫ হাজার ১৯৬ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৪৬৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৫ হাজার ৭৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১ হাজার ১৮৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৮২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগ ৪০ হাজার ২৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ১ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয় ১ হাজার ৬৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৮৭৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ৫১১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ২ হাজার ৩৮৯ কোটি ২ লাখ টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয় ২৮ হাজার ৮৮১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৭২৭ কোটি ৫১ লাখ ৭১ হাজার টাকা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২ হাজার ২৪০ কোটি ১২ লাখ টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৪৩৯ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৫৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয় ৩২ হাজার ৪১৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৩৪৯ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার টাকা, পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ৯৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, নৌপরিবহন ৯ হাজার ৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ১ হাজার ৮৮৪ কোটি ১১ লাখ টাকা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ২ হাজার ১৪১ কোটি ২২ লাখ টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি ২ লাখ টাকা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৭ হাজার ৫১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, দুর্নীতি দমন কমিশন ১৯৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, সেতু বিভাগ ২ হাজার ৯০৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ১৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।