ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬

তথ্য উপদেষ্টার আহ্বান

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলুন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৩:২৩ এএম

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশের কিছু গণমাধ্যমে তা প্রচার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের প্রচার আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থি এবং গণমাধ্যমগুলোর উচিত আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ ধরনের প্রচার থেকে বিরত থাকা।’

গতকাল মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম সম্প্রতি তার একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে। বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে আহ্বান জানাই, তারা যাতে এই কাজটি না করে এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখনই কঠোর কোনো অবস্থান নিচ্ছি না। তবে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। আশা করি, দেশের গণমাধ্যম আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এ ধরনের প্রচার থেকে বিরত থাকবে।’

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রযুক্তির যুগে বিদেশি গণমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন তথ্য জানতে পারে। তবে সেটি দেশীয় গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা তৈরি করে না।’ আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত এ ধরনের প্রচার অনূচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সরকার বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।

ব্রিফিংয়ে ‘রিফর্মড’ বা নতুন নামে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ থাকবে, ততদিন দলটি যে নামেই আসুক না কেন ‘রিফর্মড আওয়ামী লীগ’, ‘তৃণমূল আওয়ামী লীগ’ বা অন্য কোনো নামে তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের অবস্থান এ বিষয়ে স্পষ্ট। ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের সংশোধিত বিধান কার্যকর রেখেই আওয়ামী লীগের কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অনেক অধ্যাদেশ আইন হিসেবে বহাল না থাকলেও এ সংশোধনী বহাল রাখা হয়েছে, যা সরকারের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।’

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দলটি নিষিদ্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সরকারের মত হলো, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা উচিত।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিচ্ছে না। অতীতে চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও এখন সেই ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে। ফলে বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দল দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।’

ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।