ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬

দাবি বিরোধী দলের

সার্বিক বাজেট অপরিকল্পিত ও বাস্তবায়ন অযোগ্য

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৩:২৪ এএম

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ‘অপরিকল্পিত, অস্বচ্ছ ও বাস্তবায়ন অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে বিরোধী দল। তবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল, মুদি দোকানের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার এবং করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি করাসহ কয়েকটি দাবি সরকার মেনে নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাজেট পাস হওয়ার পর সংসদ ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিরোধী দল শুরু থেকেই জনগণের স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। এ কারণেই তারা বাজেটের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘এক কথায় বলতে গেলে এই বাজেট অপরিকল্পিত, অস্বচ্ছ ও বাস্তবায়ন অযোগ্য। তবে আমাদের জোরালো ভূমিকার কারণে সরকার কয়েকটি গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

সরকার যেসব দাবি মেনে নিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মুদি দোকানের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার, আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের সিদ্ধান্ত, করমুক্ত আয়ের সীমা চার লাখ টাকা নির্ধারণ এবং ব্যাংক লুটেরাদের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান প্রত্যাহার।

ব্যাংকিং খাতের দুর্বল অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাজিবুর রহমান বলেন, সরকার টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাত থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত, সে বিষয়ে বাজেটে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রাকেও তিনি অবাস্তব বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, বাজেটে ‘জুলাই চার্টার’ বাস্তবায়নের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি। শুধু নিহত ও আহতদের জন্য কিছু ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা পর্যাপ্ত নয়।

সংসদে আইন পাসের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় এ সদস্য বলেন, কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিলের কপি আগেভাগে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন তা মানা হচ্ছে না। তিনি জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬-এ আদালতের অনুমতি ছাড়াই পুলিশের সার্ভার বা কম্পিউটার জব্দের ক্ষমতা দেওয়ার বিধান নিয়েও আপত্তি জানান।

এ ছাড়া বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দকে অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি পেপারলেস বিচারব্যবস্থা ও জেলা পর্যায়ে হাইকোর্ট স্থাপনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি সংস্কার কমিটি গঠনের প্রস্তাবও পুনরায় তুলে ধরেন।