ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান

অপরাধ প্রমাণে তদন্তে জটিল সমীকরণে পুলিশ

সাইফ উদ্দিন বাবলু
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৫:৪৯ এএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা ১৮৬২টি মামলায় ছয় লক্ষাধিক আসামি হওয়ায় তদন্তে নেমে অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে জটিল সমীকরণে রয়েছে পুলিশ। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া এসব মামলায় আসামির সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিপাকে রয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলোও। যদিও এরই মধ্যে হত্যা ও অন্যান্য ধারায় দায়ের হওয়া মামলার মধ্যে ২৫৪টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে ১৯৯টি মামলার। অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৯৫ জনকে। সব মিলিয়ে মামলার নিষ্পত্তির হার মাত্র ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

জানা গেছে, পুলিশ সদর দপ্তর মামলাগুলো তদন্তে মেন্টর বা পরামর্শক কমিটি গঠনের পরও গত ২ বছরে সিংহভাগ মামলার তদন্ত ঝুলে আছে তথ্যপ্রমাণ, সাক্ষী, বাদী ও বিবাদীসহ নানা জটিলতায়। অধিকাংশ মামলায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তারাও আসামি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। আবার একই ব্যক্তি একাধিক হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার কারণে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তারা মামলাগুলোর তদন্ত শেষ করতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য, অধিকাংশ মামলায় আসামি ও ঘটনাস্থলের মিল না থাকা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ঠিকমতো না পাওয়ার কারণে তদন্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। আবার অনেক মামলা নিয়ে বাণিজ্যও হয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পুলিশকে সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে সময় লাগছে। বিশেষ করে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলো নিয়ে বেশি বিপাকে তদন্তকারীরা। অন্যদিকে অধিকাংশ হত্যা মামলার ক্ষেত্রে নিহতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না থাকলে হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে সে বিষয়ে আইনের বিধিবিধানগুলো যাচাই-বাছাই করে তদন্ত করতে হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী মারা গেছেন। এসব ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ধারায়ও মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় পুলিশ এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাবেক সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি এবং আওয়ামী লীগ এবং তার শরিক দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আসামি। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে তদন্তে দীর্ঘ সময় লাগছে।

তিনি আরও জানান, মামলাগুলোতে সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, প্রথমে সাক্ষী দিলেও তদন্তের সময় অনেকেই ভিন্ন কথা বলতে শুরু করেছে। আবার সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিতে হচ্ছে। কাউকে বাদ দিতে হবে এমন কোনো চাপ না থাকলেও মামলাগুলো যেহেতু স্পর্শকাতর তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করতে হচ্ছে।

জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা ১৮৬২ মামলার মধ্যে মাত্র ১২ মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। এখনো যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়নি, এসব মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত মামলার বাদীপক্ষ। তদন্তে গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের অনেকের নামই মামলায় নেই। আবার যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে গোপনে অনেককে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মামলাগুলোর তদন্তে ধীরগতিতে চলছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কবে নাগাদ শেষ হবে সে বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতনরাও কিছু বলতে পারছেন না।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তখন মাঠে থাকা সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ধীরে ধীরে থানার কার্যক্রম শুরু হলে গণঅভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় মামলা হতে থাকে। ওই সময় যে যেভাবে পেরেছে মামলা করে নিজেদের মতো করে আসামি করেছে। অনেক মামলায় আসামি করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত, পেশাগত ও ব্যাবসায়িক বিরোধ ও বিদ্বেষ কাজ করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চাঁদা না পেয়ে মামলায় আসামি করা হয়েছে। আবার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। আবার ঘটনাই ঘটেনি এমন অভিযোগ এনেও মামলা করা হয়েছে। অন্য ঘটনায় মারা গেছে, অথচ জুলাইয়ে পুলিশের গুলি বা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে মারা গেছে এমন তথ্য দিয়েও মামলা করা হয়েছে। মামলায় ঢালাও আসামি করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত বছরের ১৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে এ ধরনের মামলা করার মাধ্যমে যারা অপতৎপরতা চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া হয়রানিমূলকভাবে যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে সরকারের উচ্চপর্যায় ও পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি মেন্টর বা পরামর্শক কমিটি করা হয় মামলার অভিযোগ, প্রকৃত আসামি কারা, নিরাপরাধ কোনো ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে কিনা অথবা ঘটনা ঠিক আছে কিনা এসব যাচাই-বাছাই করতে। সারা দেশে ১০টি ‘মেন্টরিং অ্যান্ড মনিটরিং’ দলের মাধ্যমে মামলাগুলো তদারক করা হয়েছে। এর মধ্যে আট বিভাগে আটটি, রাজধানীতে একটি ও গাজীপুরের জন্য একটি দল করা হয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক প্রতিটি মনিটরিং দল নিয়ে বৈঠকে বসে মামলাগুলো বিশ্লেষণ করছেন। তা ছাড়া ঢালাও বা হয়রানিমূলক আসামি করার বিষয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করতে প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সরকারি কৌঁসুলির (পিপি) সমন্বয়ে এবং মহানগরের ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনার ও বিভাগীয় কমিশনারের সমন্বয়ে কমিটি করা হয়েছে। এসব কমিটি তদন্তে অগ্রগতির বিষয়গুলোও পর্যবেক্ষণ করছে। এতে বেশ কিছু মামলার তদন্ত শেষপর্যায়ে চলে এসেছে।

মেন্টর কমিটির আওতাধীন মামলার সর্বশেষ অবস্থা : পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে,  জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সারা দেশে ১৮৬২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ছয় লাখ ১০ হাজার ৭২০ জন। এর মধ্যে এজাহারনামীয় আসামির সংখ্যা এক লাখ ৫৪ হাজার ৩৩১ জন। মামলায় সন্দিগ্ধ আসামির সংখ্যা চার লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জন।

সূত্র বলছে, মোট মামলার মধ্যে হত্যা মামলা ৭৯৯টি।  হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় আসামির সংখ্যা ৬৫ হাজার ২১০ জন। সন্দিগ্ধ আসামির সংখ্যা দুই লাখ ৫১ হাজার ৮৫১ থেকে দুই লাখ ৬২ হাজার ৬১ জন। হত্যা মামলার মধ্যে তদন্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১০০টির। এসব মামলার মধ্যে ৬৩টি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আর ফাইনাল ট্রুথ রিপোর্ট (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) বা এফআরটি দেওয়া হয়েছে ৩৭টি মামলার। সূত্র জানিয়েছে, ৬৩টি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে আসামির সংখ্যা ৫ হাজার ৭৯৩ জন। হত্যা মামলা নিষ্পত্তির হার ১২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

সূত্র আরও জানিয়েছে, হত্যা ছাড়া অন্যান্য ধারায় মামলা হয়েছে ১০৬৩টি। এসব মামলায় এজাহারনামীয় আসামির সংখ্যা ৮৯,১২১ জন। সন্দিগ্ধ আসামির সংখ্যা এক লাখ ৯৩ হাজার ৭৫৮ জন। অন্যান্য ধারার এসব মামলার মধ্যে ১৫৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ১৩৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আর ১৮টি মামলা চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা এফআরটি দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য মামলা নিষ্পত্তির হার ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অভিযোগপত্র দেওয়া অন্যান্য ১৩৬ মামলায় আসামি করা হয়েছে ১০ হাজার ২০২ জনকে।

সম্পৃক্ততা না থাকায় তদন্তে বাদ দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার আসামি : পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে মামলাগুলো তদন্তকালীন হত্যা ও অন্যান্য ধারার ৮৩২টি মামলা থেকে ৫ হাজার ২১৮ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রবিধান ১৭৩ (এ) ধারা অনুুযায়ী তদন্তকালীন এজাহারে নাম থাকলেও অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে বাদ দিতে পারেন। অভিযোগপত্র দাখিলের আগে এজাহারনামীয় এসব আসামিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব মামলা এখনো তদন্তে আছে সেখানেও বাদ দেওয়া আসামির নাম ছিল।

তথ্য অনুুযায়ী পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি ১১৭টি মামলা তদন্ত করছে। এর মধ্যে এ ক্যাটাগরিতে ৮৮ মামলা তদন্তে রাখা হয়েছে, বি ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে ২৯ মামলা। এ ক্যাটাগরির ৮৮ মামলার মধ্যে ৩ মামলার তদন্ত কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ২৫১টি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ৮৯টি এবং অন্যান্য মামলা ১৮৯টি। হত্যা মামলার মধ্যে ৪৮টি এবং অন্যান্য মামলার মধ্যে ১১৪টি মিলিয়ে ২০২টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে পিবিআই। নিষ্পত্তি সিআর মামলার মধ্যে ১০০টি মামলায় তারা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে পেরেছে। অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি ৩২টি মামলায়। আদালতে নানা কারণে ফেরত গেছে ২৯টি মামলা।

মামলা তদন্তে জটিলতা যেখানে : পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামলার আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই করতে দীর্ঘ সময় লাগছে। একেকটি মামলায় একশ থেকে তিনশ পর্যন্ত আসামি। কোনো কোনো মামলায় এরচেয়েও বেশি আসামি। তাদের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা যাচাই করতে অনুসন্ধান স্লিপ পাঠান তদন্ত কর্মকর্তারা। সেই প্রতিবেদন আসতে দীর্ঘ সময় লাগছে। মামলা-সংক্রান্ত অডিও-ভিডিওসহ বিভিন্ন ডিজিটাল লিংকের ফরেনসিক প্রতিবেদন পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এ ছাড়া ভিকটিমের মৃত্যুকালীন ও জীবিতকালীন ছবিসহ যাচাই করতেও বিলম্ব হয়। হতাহতের ঘটনায় জব্দকৃত গুলির ব্যালস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদন আসতেও দীর্ঘ সময় লাগছে। এ ছাড়া মেডিকেল সনদ পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এ ছাড়া যেসব সরকারি হাসপাতালে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের ময়নাতদন্ত হয়েছে, সেসব হাসপাতালে দফায় দফায় চিঠি দিয়েও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন মিলছে না। যেসব জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ঘটনার সময় বাহিনীর কোন কোন সদস্য মোতায়েন ছিল সে তথ্য পেতে বিলম্ব হচ্ছেÑ বিশেষ করে পুলিশের বাইরে যারা মোতায়েন ছিলেন তাদের তথ্য।

একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, ঘটনার দায়দায়িত্ব নির্ধারণে এ তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বাহিনী মোতায়েনের সঠিক তথ্য বিশেষ করে কার বা কাদের গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তাদের নাম-পরিচয় পেতে বিলম্ব হওয়ায় মামলা নিষ্পত্তি করতে পারছেন না তদন্ত কর্মকর্তারা।

মামলার বর্ণিত আসামিদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর এবং কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) পেতেও বিলম্বের কারণে তদন্ত আটকে যাচ্ছে। এজাহারে ঘটনাস্থলের ভুল বর্ণনাও তদন্ত কর্মকর্তাদের গলদঘর্ম করছে। তদন্তও জটিল করে তুলছে।

পুলিশের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘দীর্ঘদিনেও মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পুলিশের জন্যবড় ব্যর্থতা।তবে সমস্যা হচ্ছে ভিন্ন জায়গায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারারাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন’। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘দেখা গেছে, মামলায় অনেককেভুয়া আসামি করা হয়েছে। কিন্তু তাদের বাদ দেওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেকের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ মিললেও তাকে বাদ দিতে রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। এছাড়া মামলা ঝুলিয়ে রেখে এক ধরনের বাণিজ্যও শুরু হয়েছে। এ বাণিজ্যের সাথে মামলার বাদী, সাক্ষী এবং তদন্তকারী সবাই জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া যচ্ছে’।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন,  ‘যারা ঘটনার সাথে জড়িত নয়, তাদের ইচ্ছা করলে তদন্ত কর্মকর্তা ১৭১(এ) অনুযায়ী বাদ দিতে পারেন। কিন্তু সেই কাজটি হচ্ছে না। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা চাকরির ভয়ে সাহস নিয়ে কাজটি করতে পারছেন না। অনেক মামলা ভুয়া করা হয়েছে। ঘটনার সাথে ঘটনাস্থলের মিল নেই। আবার বাদীর সাথে ভিকটিমের কোনো সম্পর্ক নেই। একজন মারা গেছে, অথচ বাদী হয়েছে এমন ব্যক্তি যার সাথে মারা যাওয়া ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক নেই। সব মিলিয়ে মামলাগুলো ঝুলে থাকার অর্থ হলো নিরাপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি করা। এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তারা আসামি হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পুলিশ’।

আন্দোলনে যেসব মৃতদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে, সেসব লাশের ময়নাতদন্ত করতে কবর থেকে লাশ উত্তোলনে বিলম্ব হচ্ছে। এ ছাড়া অনেক ভিকটিমের স্বজনরা লাশ উত্তোলনে বাধা দিচ্ছেন বা উত্তোলন করতে চান না। মামলার আসামি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে সরকারের পূর্বানুমতিতে সময় লাগছে।

৭ মামলার রায় হয়েছে : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত ৭টি মামলার রায় প্রদান করেছেন। এই ৭টি রায়ে মোট ৫৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদ- এবং বাকিদের যাবজ্জীবন কারাদ- ও অন্যান্য মেয়াদের কারাদ- দেওয়া হয়েছে।