ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

ভোলায় ফিলিপাইনি ব্ল্যাক আখ চাষে নতুন সম্ভাবনা

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৭:২১ এএম

ভোলা জেলায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া ফিলিপাইনি ব্ল্যাক (ভিয়েতনামি কালো) জাতের আখ চাষ কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। স্বাদে মিষ্টি, রসালো এবং বাজারে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন এ জাতের আখের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী কৃষক ও কৃষি বিভাগ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফল চাষাবাদের খবর পেয়ে ভোলার অনেক কৃষকও এ জাতের আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপাইনি ব্ল্যাক জাতের আখ প্রচলিত জাতের তুলনায় অধিক ফলনশীল এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম। উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের আখ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ভোলায় এর বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের প্রবাসফেরত কৃষক মো. জুয়েল প্রথমবারের মতো ৭০ শতক জমিতে এ জাতের আখের চাষ করেছেন। তিনি জানান, গাছের বৃদ্ধি ও ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। বাজারে অনুকূল দাম পাওয়া গেলে এ মৌসুমে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। জুয়েল বলেন, ‘প্রথমবার চাষ করেও ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারে ভালো দাম পেলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে ফিলিপাইনি ব্ল্যাক আখের চাষ করব।’

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন ও লাভজনক ফসলের চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে তদারকি জোরদারের পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খাইরুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফিলিপাইনি ব্ল্যাক আখের চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের এ সফলতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ জাতের আখ ভোলার অন্যতম লাভজনক কৃষিপণ্যে পরিণত হতে পারে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি জেলার কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’