ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

শিক্ষার্থীর সংকটে ১৫৪ কারিগরি প্রতিষ্ঠান

রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৭:২৪ এএম

জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা) কোর্সে দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় রাজশাহী বিভাগের ১৫৪টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান কোনো জবাব দেয়নি। ফলে আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার জন্য আবারও নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সেশন থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

গত ১ জুলাই বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উপপরিদর্শক (শর্ট কোর্স) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সামসুল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের ১ হাজার ৮৫টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগের ১৫৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্সে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।

তালিকা অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৫১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে রাজশাহী জেলায়। এ ছাড়া বগুড়ায় ৩৩টি, সিরাজগঞ্জে ২০টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪টি, পাবনায় ১৪টি, নাটোরে ৯টি, নওগাঁয় ৭টি এবং জয়পুরহাটে সবচেয়ে কম ৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা) শিক্ষাক্রমে যেসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে না, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগামী জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সেশন থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং পাঠদানের অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহার কেন করা হবে নাÑ এই মর্মে ব্যাখ্যা চেয়ে আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব না পাওয়ায় আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর ব্যাখ্যা পাঠানোর জন্য পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত ৩৬০ ঘণ্টার একটি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতী ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়।

এই কোর্সে কম্পিউটার অপারেশন, ইলেকট্রিক্যাল, ওয়েল্ডিং, ড্রাইভিং, টেইলারিং, রেফ্রিজারেশন, এয়ার কন্ডিশনিংসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী ও সেবাধর্মী ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণসহ বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার শিক্ষার্থীরা নামমাত্র ফিতে এই কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে সরকারি সনদ দেওয়া হয়, যা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে স্বীকৃত।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন শিক্ষার্থী না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পাশাপাশি পাঠদানের অনুমোদনও বাতিল হতে পারে।