প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ডিঙিয়ে গোল বের করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল ফ্রান্সের জন্য। তবে বক্সের মধ্যে ফাউল করে ফরাসিদের সুযোগ করে দেয় লাতিন আমেরিকার দলটিই। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফলে বিদায় নিশ্চিত হয় প্যারাগুয়ের।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচটিতে ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে চলমান আসরে নিজের সপ্তম গোলের সুবাদে ফ্রান্সকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন এমবাপ্পে। এর মধ্য দিয়েই বিদায় নেয় প্যারাগুয়ে।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই আক্রমণে যায় ফ্রান্স। মুহূর্তেই পাল্টা আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স। জুল কুন্দে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের অর্ধে উঠে ডান পাশে উসমান দেম্বেলের কাছে পাস দেন। দেম্বেলে বক্সের ভেতরে নিচু ক্রস বাড়ালে সেখানে পৌঁছে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে শট নেওয়ার আগেই প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করে বিপদ সামলে নেন।
১১ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে একক প্রচেষ্টায় এগোনোর চেষ্টা করেন এনসিসো। তবে মুহূর্তের মধ্যেই তাকে ঘিরে ফেলেন ফ্রান্সের একাধিক ডিফেন্ডার। শেষ পর্যন্ত উইলিয়াম সালিবা নিখুঁত ট্যাকলে বল কেড়ে নিয়ে ফ্রান্সের দখল ফিরিয়ে আনেন।
বল দখল পেলেও তা ধরে রাখতে পারছিল না প্যারাগুয়ে। নিজেদের অর্ধ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টায় বারবার সমস্যায় পড়ছে তারা। সামনের দিকে বাড়ানো বেশির ভাগ পাসই সহজে সামলে নিচ্ছে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ।
প্রথমার্ধের খেলা শেষে দুই দলের কেউই পায়নি গোলের দেখা। প্রথমার্ধের খেলা শেষে ৮০ শতাংশ বল দখলে রেখে ৬ বার শট নিয়ে লক্ষ্যে রেখেছে ফ্রান্স মাত্র একটি। তবে দুটি শট নিয়ে একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি ২০ শতাংশ বল দখলে রাখা প্যারাগুয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা মাঠে ফিরলে ৪৭ মিনিটে মাঝমাঠে ফ্রি-কিক পায় প্যারাগুয়ে। আলমিরন ফাউলের শিকার হলে সুযোগটি আসে। তবে সেট-পিস থেকে কোনো কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
পেনাল্টি নিতে এসে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে গিয়ে রান-আপে গতি কমিয়ে গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠান। এরপর নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন জালের ডান নিচের কোণে। এটি চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের সপ্তম গোল এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে ১৯তম গোল। এই তালিকায় তার চেয়ে এগিয়ে আছেন শুধু লিওনেল মেসি। গোল হজমের পর একাধিক পরিবর্তন আনে প্যারাগুয়ে। মাঠ ছাড়েন মিগেল আলমিরন ও গুস্তাভো গোমেজ। তাদের পরিবর্তে নামেন গ্যাব্রিয়েল আভালোস এবং মরিসিও। ৭৩ মিনিটে হাইড্রেশন ব্রেক শুরু হলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঝে আবারও কথার লড়াই শুরু হয়। ফ্রান্সের হয়ে সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
৯০ মিনিটের খেলা শেষে অতিরিক্ত ১০ মিনিটের খেলার নির্দেশনা দেয় রেফারি। সেই অতিরিক্ত সময়ের অষ্টম মিনিটে অসাধারণ এক আক্রমণ গড়ে তোলে ফ্রান্স। দুর্দান্ত থ্রু পাসে বাম প্রান্তে দুএকে খুঁজে নেন ওলিসে। দুয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে এমবাপ্পের দিকে পাস বাড়ান। বক্সের কিনারা থেকে এমবাপ্পের প্রথম শটটি দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক গিল। ফিরে আসা বল আবারও পেয়ে বাঁ পায়ের শটে গোলের উদ্দেশে পাঠান এমবাপ্পে। কিন্তু এবারও অসাধারণ প্রতিক্রিয়ায় গিল বল ঠেকিয়ে ফ্রান্সকে দ্বিতীয় গোল থেকে বঞ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় আসরের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স।

