চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচে আজ রাতে, বাংলাদেশ সময় ২টায়, কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া। দুই দলেরই লক্ষ্য, বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা অর্জনের পুনরাবৃত্তি ঘটানো। এর আগে উভয় দলই একবার করে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে।
বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে দুই দলই। তবে পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাসে কিছুটা এগিয়ে রাখা হয়েছে কলম্বিয়াকে। অপটা সুপার কম্পিউটারের ২৫ হাজার সিমুলেশনের ফলাফলে নির্ধারিত সময়ে কলম্বিয়ার জয়ের সম্ভাবনা ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ আর সুইজারল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ২৮ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
সুইজারল্যান্ডের চোখ ইতিহাসে : গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউটে ওঠে সুইজারল্যান্ড। এরপর শেষ বত্রিশে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পায় তারা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করেন ব্রিল এমবোলো ও ড্যান এনদোয়ে। ম্যাচটিতে অসাধারণ পারফর্ম করেন তরুণ মিডফিল্ডার জোহান মানজাম্বি। তিন গোল ও দুই অ্যাসিস্ট মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে পাঁচটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার। এদিকে এমবোলোর এটি বিশ্বকাপে চতুর্থ গোল। সুইজারল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু জোসেফ হুগি (৬) ও জার্দান শাকিরি (৫)।
কোচ মুরাত ইয়াকিনের অধীনে বিশ্বকাপ মিশন শুরুর পর গা গরম ম্যাচসহ আট ম্যাচে পাঁচটি জিতেছে সুইজারল্যান্ড। এ ছাড়া দলটি বর্তমানে টানা ১০টি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে। এই সময়ে তাদের অর্জন সাতটি জয় ও তিনটি ড্র।
কলম্বিয়ার ভরসা শক্ত রক্ষণ : অন্যদিকে, শেষ বত্রিশে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। ম্যাচের ১৪ মিনিটের আগেই জন আরিয়াসের করা গোলে জয় নিশ্চিত হয়। গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা লুইস সুয়ারেজ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে বদলি খেলোয়াড়ের সবচেয়ে দ্রুত গোল অবদান হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। রক্ষণভাগে এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করছে কলম্বিয়া। টানা তিনটি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি দলটি, যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম। তবে আক্রমণে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা। সর্বশেষ তিন ম্যাচে ২০টির বেশি শট নিলেও গোল এসেছে মাত্র দুটি। সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই হবে কোচ নেস্তর লরেঞ্জোর অন্যতম লক্ষ্য।
দুই দলের হেড-টু-হেড : দুই দলের মধ্যে এ পর্যন্ত চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ছিল প্রীতি ম্যাচ। একমাত্র বিশ্বকাপের লড়াই হয়েছিল ১৯৯৪ সালের আসরে। সেই ম্যাচে ২-০ গোলে জয় পেয়েছিল কলম্বিয়া। তবে চলতি বছরে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এখনো কোনো জয় পায়নি কলম্বিয়া। বিপরীতে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে স্পেনের পর সবচেয়ে কম ম্যাচ হেরেছে সুইজারল্যান্ড।

