ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

দখল-দূষণে মৃতপ্রায় জনতা খাল

বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৭:১১ এএম

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুলাইপত্তন থেকে কাচিয়া ইউনিয়নের চকডোষ পর্যন্ত বিস্তৃত ঐতিহ্যবাহী ‘জনতা খাল’ আজ অবহেলা, দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ফকিরহাট থেকে লেবুকাটা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি একসময় কৃষিকাজে সেচ, মৎস্য আহরণ এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং কুঞ্জেরহাট বাজারের বর্জ্য ফেলার কারণে খালটি এখন পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কুঞ্জেরহাট বাজারের যাবতীয় বর্জ্য খালে ফেলার ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। খালজুড়ে কচুরিপানার ঘন আস্তরণ তৈরি হওয়ায় এটি এখন মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে চারদিকে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। এর ফলে ফকিরহাট, কুঞ্জেরহাট, মুলাইপত্তন ও চকডোষসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি ঠিকমতো নিষ্কাশন হতে না পারায় বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি দীর্ঘসময় পানির নিচে তলিয়ে থাকছে। অন্যদিকে, শুকনো মৌসুমে খালে পানি না থাকায় তীব্র সেচ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ফসলের উৎপাদন।

স্থানীয় কৃষক রহিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে এই খালের পানি দিয়ে অনায়াসে জমিতে সেচ দিতাম। এখন খাল ভরে গেছে কচুরিপানা আর ময়লায়। শুকনো মৌসুমে পানি পাই না, আবার বর্ষায় পানি নামতে না পেরে জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়।’

গ্রামবাসীরা জানান, দ্রুত খালটি খনন ও পরিষ্কার করা না হলে এই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে কোনোভাবেই মুক্তি মিলবে না। এছাড়া পচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

কুঞ্জেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী পবিত্র মন্ডল বলেন, ‘বাজারে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে খালে ময়লা ফেলছেন। একটি স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।’

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জনতা খালকে দখল ও দূষণমুক্ত করে দ্রুত পুনঃখনন এবং কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে কুঞ্জেরহাট বাজারের জন্য আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খালে ময়লা ফেলা রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। ভুক্তভোগীদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করলে জনতা খাল আবারও তার হারানো যৌবন ফিরে পাবে। এতে জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।