বন্যার পানি কমলেও কাটেনি তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের চর ঢুষমারা এলাকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ৪০টি পরিবারের বসতঘর। ভাঙনের মুখে পড়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি জামে মসজিদ ও একটি ফোরকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। গতকাল সোমবার সরেজমিনে চর ঢুষমারা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কিছুদিন আগেও যেখানে ছিল সারি সারি বসতবাড়ি, উঠান ও ফসলের জমি, সেখানে এখন তিস্তার উত্তাল স্রোত। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো নিজেদের ভিটেমাটি বিলীন হতে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ ঘরের টিন খুলে নিচ্ছেন, কেউ বাঁশ-খুঁটি সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্যার পানি নামার পর থেকেই ভাঙনের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ রাস্তার পাশে কিংবা উঁচু স্থানে অস্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করেছেন।
বর্তমানে চর ঢুষমারা জামে মসজিদ, ফোরকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া সোলেমান, সুফিয়ান, সাবিল্লা বেগম ও রশিদ মিয়ার বসতঘর এখন নদীর একেবারে কিনারায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই এসব স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। চর ঢুষমারা গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তার ভাঙন আগেও দেখেছি, কিন্তু এবার মাত্র এক সপ্তাহে এত মানুষকে নিঃস্ব হতে দেখিনি।’
বসতভিটা হারানো বাদশা মিয়া বলেন, ‘পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো চর ঢুষমারা নদীগর্ভে চলে যাবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা ত্রাণ চাই না, চাই নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই দুর্ভোগের শেষ হবে না।’ একই দাবি জানিয়ে আবেদ আলী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সবাই প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ নেন না। প্রতি বছর ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে আমরা ক্লান্ত।’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেজবাহুল রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়া যায়। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, চর ঢুষমারা এলাকার ভাঙনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

