ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৭:২৫ এএম

খুলনার কয়রা উপজেলার ফতেকাটি কুশোডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে চলছে পাঠদান। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কার মধ্যে ক্লাস করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। ফলে বিদ্যালয়টিতে একটি নতুন পাকা ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের ১ জানুয়ারি প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে ১৫৭ জন শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠাকালে মাটির বেঞ্চ ও গোলপাতার ছাউনি দিয়ে পড়াশোনা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে ২০০০-২০০১ অর্থবছরে এখানে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে কয়েক বছর আগে সেই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ টেন্ডারের (নিলাম) মাধ্যমে তা বিক্রি করে দেয়। এরপর থেকে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় পুনরায় জরাজীর্ণ গোলপাতার ঘরেই বাধ্য হয়ে চলছে পাঠদান।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, বর্ষাকালে গোলপাতার ছাউনি গলে ক্লাসরুমে পানি পড়ে। এতে তাদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায় এবং তারা ঠিকমতো বসতে পারে না। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই ঘর ভেঙে গায়ের ওপর পড়বে কিনাÑ এই আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের।

কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে ক্লাসরুম সয়লাব হয়ে যায়। বসার জায়গার তীব্র সংকট তো আছেই, তার ওপর বিদ্যালয়ে কোনো বাথরুম কিংবা খাবার পানির সুব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে শিশুদের বাড়ি থেকে ব্যাগে করে পানির বোতল পাঠাতে হয়। স্কুলটির পড়াশোনার মান ভালো হলেও পরিবেশের কারণে বাচ্চারা এখন আর স্কুলে যেতে চায় না। তারা দ্রুত এখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি বর্তমানে ভাঙাচোরা টিন ও গোলপাতার বেড়া দিয়ে কোনো রকমে দাঁড়িয়ে আছে। সামান্য ঝড়-বাতাসেই এটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে বৃষ্টির পানি জমে পুরো এলাকা কর্দমাক্ত হয়ে আছে, যা শিশুদের চলাচলের অনুপযোগী।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. রেজাউল হক বলেন, ‘আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী স্কুল থেকে পড়াশোনা করে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চাকরি করছেন। বর্তমানে স্কুলটির যে জরাজীর্ণ অবস্থা, তাতে একটি পাকা ভবন অত্যন্ত জরুরি। এখানে একটি পাকা ভবন নির্মিত হলে দুর্যোগের সময় এলাকাবাসী এটিকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন।’

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রব বলেন, ‘স্কুলটি বর্তমানে ভীষণ জরাজীর্ণ। বর্ষার সময় গোলপাতা চুইয়ে পানি পড়ায় বাচ্চারা ক্লাসে বসতে পারে না। ফলে এই সময়ে উপস্থিতিও অনেক কমে যায়। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি পাকা ভবনের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার পাল জানান, বিদ্যালয়টিতে নতুন পাকা ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা ও প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।