ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের  দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড 

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৭:২০ এএম

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের দায়ে আসামি মো. শাহিনকে (৫৩) মৃত্যুদ- দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়েলা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন। দ-প্রাপ্ত শাহিন রামগড় উপজেলার ২ নম্বর পাতাছড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের লেদু মিয়ার ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত এই ট্রাইব্যুনালের এটিই প্রথম মামলার রায়। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার মাত্র ১১ মাস ১৪ দিনের মাথায় মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। মামলা চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জন এবং আসামিপক্ষে ৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ সিদ্ধান্ত নেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি রামগড়ের নাকাপা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বছরের (২০২৫ সাল) ২২ জুলাই দুপুরে মাদরাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে নাকাপা বাজারস্থ ‘মিম হোটেল’ নামক দোকানের সামনে পৌঁছালে দোকানদার মো. শাহিন তাকে ডেকে ভেতরে নিয়ে যান। আসামি স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় পূর্বপরিচিত ও সম্পর্কসূত্রে ‘নাতিন’ ডেকে প্রথমে তাকে দোকানে বসিয়ে বিস্কুট ও কেক খেতে দেন।

দোকান থেকে বের হতে দেরি হওয়ায় ভুক্তভোগীর সহপাঠীরা তাকে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে দোকানে কোনো ক্রেতা বা লোকজনের উপস্থিতি না থাকার সুযোগে আসামি শাহিন শিশুটিকে দোকানের পেছনের অংশে বেড়ার আড়ালে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এই ঘটনায় পরবর্তীতে রামগড় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

মামলার রায়ে গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৃজনী ত্রিপুরা। রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল এত দ্রুত রায় দিয়ে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই রায়ের ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেয়েছে।’

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেদারুল ইসলাম এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।