ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

রায়গঞ্জে সেতুর মুখ বন্ধ করে ভরাটের অভিযোগ

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৭:২৬ এএম

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় একটি সেতুর পানি নিষ্কাশনের মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে সেতুর দুই পাশের প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ফসলহানির ঝুঁকি তৈরি হবে।

গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে রায়গঞ্জ-আটঘরিয়া সড়কের পুরাতন তেলিজানা এলাকায় নির্মিত সেতুর এক পাশে মাটি ফেলে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত মোজাহের আলীর ছেলে গোলাম রব্বানী এবং আলতাফ হোসেনের ছেলে শহিদুল ইসলাম সেতুর মুখে মাটি ফেলে পানি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসী ও কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুর মাধ্যমে আশপাশের কৃষিজমির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হয়ে আসছিল। কিন্তু সেতুর মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় এখন বর্ষা মৌসুমে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমিতে রোপা আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত সেতুর মুখ থেকে মাটি অপসারণ করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে সেতুর মুখে মাটি ভরাটের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি পাইপ বসিয়েছি। আগামীকাল আরও একটি পাইপ বসানো হবে।’ তবে কেন সেতুর মুখ বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। অন্য অভিযুক্ত গোলাম রব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। দ্রুত তদন্ত করা হবে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করবে এবং সম্ভাব্য কৃষি ক্ষতি থেকে জমিগুলো রক্ষা করবে।