ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

কাঠবাদাম ভেবে ‘জামালগোটা’ খেয়ে অসুস্থ ১৪ শিশু

মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৭:২১ এএম

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় কাঠবাদাম ভেবে বিষাক্ত ‘জামালগোটা’ (স্থানীয়ভাবে জিয়ালা) গাছের ফল খেয়ে অন্তত ১৪ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তীব্র পেটব্যথা, বমি ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলে তাদের মধ্যে ৯ জনকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসায় বর্তমানে সবাই শঙ্কামুক্ত রয়েছে। গত রোববার বিকেলে উপজেলার সহড়াবাড়ীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুরা হলোÑ মোস্তাকিন (১২), কাফি (১২), আমেনা খাতুন (৩), হালিমা (৯), রক্তিমা (১১), রিয়াদ (১১), ফেরদৌস (১০), ফুয়াদ (১২) ও মোস্তাকিম (৯)। অন্য পাঁচ শিশুকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের সবার বাড়ি সহড়াবাড়ীয়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে গ্রামের কয়েকজন শিশু মাঠে ফুটবল খেলার পর বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশে একটি গাছে থোকায় থোকায় ফল দেখতে পায়। ফলগুলো কাঠবাদাম ভেবে তারা খেয়ে ফেলে। মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় কয়েকজন একাধিক ফলও খায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা না দিলেও সন্ধ্যার পর একে একে শিশুদের তীব্র পেটব্যথা, বমি ও শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। এতে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত ১০টার দিকে গুরুতর অসুস্থ ৯ শিশুকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মেহেরপুর জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জামালগোটা একটি পরিচিত ভেষজ উদ্ভিদ হলেও এর বীজ ও ফলে শক্তিশালী বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। অতীতে এটি লোকজ চিকিৎসায় সীমিতভাবে ব্যবহার করা হলেও অপরিশোধিত অবস্থায় এর ফল বা বীজ খেলে তীব্র পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গাছটি সাধারণত রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে এবং জমির বেড়ায় জন্মে। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মাছুদুর রহমান বলেন, ‘বিষাক্ত ফল খাওয়ার কারণে শিশুরা অসুস্থ হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা শঙ্কামুক্ত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে পর্যায়ক্রমে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হবে।’