ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে অভিষেকে হাসানের ঝলক

মাঠে ময়দানে ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৭:৩১ এএম

ম্যাচের প্রথম বলে পয়েন্ট দিয়ে চার, চতুর্থ বলে স্কুপ করে ফাইন লেগ গিয়ে ছক্কা। টবি অ্যালবার্ট আভাস দিচ্ছিলেন ভয়ংকর হয়ে ওঠার। কিন্তু নতুন বলে ইয়র্কারের জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না! ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই নিখুঁত এক ইয়র্কারে তাকে বোল্ড করে দিলেন হাসান মাহমুদ। পরের তিন ওভারে আর উইকেট পাননি হাসান। তবে দারুণ আঁটসাঁট বোলিং করেছেন। টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে অভিষেকে কেন্ট স্পিটফায়ার্সের হয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন বাংলাদেশের এই পেসার।

টি-টোয়েন্টি যেকোনো প্রেক্ষাপটেই এটি দারুণ বোলিং পারফরম্যান্স। হাসানের বোলিং ফিগার আরও দুর্দান্ত মনে হবে প্রতিপক্ষের স্কোর জানলে। হ্যাম্পশায়ার হকস ২০ ওভারে তুলেছে ৩ উইকেটে ১৯০ রান। কদিন আগে কেন্টের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক ম্যাচেই ৯ উইকেট শিকার করেন হাসান। ম্যাচে ও ইনিংসে ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং উপহার দেন সেই ম্যাচে। পরের ম্যাচেও উইকেট নেন তিনটি। সেই পারফরম্যান্সের পথ ধরে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টেও সুযোগ মিলে যায় তার। বাংলাদেশের হয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্ট খেলে আবার ইংল্যান্ডে ফেরেন ২৬ বছর বয়সি এ পেসার। লাল বল থেকে সাদা বলে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়নি তার।

সাউথ হ্যাম্পটনের রোজ বোল স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিং নেয় কেন্ট। টম রজার্সের প্রথম ওভারে ১১ রান এলেও দ্বিতীয় ওভারে দারুণ বোলিং করেন হাসান। তার প্রথম পাঁচ বল থেকে আসে স্রেফ চারটি সিঙ্গল। ওভারের শেষ বলে লেগ স্টাম্পে অসাধারণ এক ইয়র্কারে বোল্ড করে দেন তিনি অ্যালবার্টকে। পরের ওভারে জেমস ভিন্সের ব্যাটে হজম করেন তিনি দুটি বাউন্ডারি। রান দেন ওভারে ১১।

দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন ভিন্স ও জো ওয়েদারলি। হাসান দ্বিতীয় স্পেলে ফেরেন দ্বাদশ ওভারে। ভিন্স ও ওয়েদারলির জুটি তখন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। কিন্তু হাসানের বোলিংয়ে স্রেফ চারটি সিঙ্গলই আসে ওই ওভারে। এরপর অষ্টাদশ ওভারে ফিরেও চমৎকার বোলিং করেন হাসান। হ্যাম্পশায়ারের উইকেট বাকি ছিল তখনো ৮টি। কিন্তু হাসানের ছয় বলে ছয়টি সিঙ্গলের চেয়ে বেশি নিতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা।

তবে অন্য বোলারদের ভুগিয়ে ঠিকই বড় স্কোর গড়ে হ্যাম্পশায়ার। অভিজ্ঞ ভিন্স ৪০ বলে করেন ৬৩, তিনে নেমে ওয়েদারলি অপরাজিত থাকেন ৪৭ বলে ৬১ রান করে। পরে ২৪ বলে ৪১ করেন দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান ট্রিস্টান স্টাবস। হাসান ছাড়া ওভারপ্রতি আটের কম রান দিতে পারেননি কেন্টের আর কেউ। রান তাড়ায় একসময় দারুণভাবেই পথে ছিল কেন্ট। ওপেনিংয়ে ড্যানিয়েল বেল-ড্রামন্ড ৯ রান করে আউট হলেও টাওয়ান্ডা মুয়েয়ে জ্যাক ক্রলির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৭ ওভারে রান ওঠে ৮২।

তবে এরপর পথ হারায় তারা। ৩০ বলে ৫০ রান করে আউট হন মুয়েয়ে, ১৭ বলে ৩৩ ক্রলি। এরপর আর কোনো ব্যাটসম্যান সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। পাঁচে নেমে ১৬ বলে ২৫ রান করেন গ্র্যান্ট স্টুয়ার্ট।

শেষ ৫ ওভারে কেন্টের প্রয়োজন ছিল ৪৭ রান। উইকেট তখনো ছিল ৬টি। কিন্তু সেই সমীকরণ মেলাতে পারেনি কেন্ট। শেষ ১৩ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রানে গুটিয়ে যায় তারা। হ্যাম্পশায়ার ম্যাচ জিতে নেয় ১৯ রানে। হ্যাম্পশায়ারের সনি বেকার ২৫ রানে নেন ৪ উইকেট, স্কট কুরি ৩০ রানে ৩টি। দশে নেমে হাসান কোনো বল খেলার সুযোগ পাননি। টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে আরও দুটি ম্যাচ খেলবেন হাসান।