ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের ‘গ্রিন ভিলা’য় পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০২:০২ এএম

পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে গেলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। গতকাল রোববার বিকেল ৩টার দিকে তিনি রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কের নিজ বাড়ি ‘গ্রিন ভিলা’য় পৌঁছান। এর আগে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি বঙ্গভবন থেকে গুলশানের উদ্দেশে রওনা হন।

এর আগে শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের জন্য তিনি নির্বাচিত হলেও তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করেন। আজ বঙ্গভবন ছাড়ার মাধ্যমে তার এই দীর্ঘ রাজকীয় অবস্থানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।

জানা গেছে, এখন সপরিবারে গুলশানের এ বাড়িতেই থাকবেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেও তিনি এ বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। গতকাল সকাল থেকেই ওই বাড়ির সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ, এপিবিএন, সেনাবাহিনী এবং এসএসএফ সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়। আগের দুদিন ওই বাড়িতে গিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ চলতে দেখা যায়। আসবাবপত্র পরিষ্কার করার পাশাপাশি বাড়ির নিচতলার বসার জায়গাটি নতুন করে রং করা হয়।

নানা জল্পনা-কল্পনার পর গত শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান মো. সাহাবুদ্দিন। পরে জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে স্পিকার জানান, তিনি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। এক সময় তিনি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার। পরে তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে আওয়ামী লীগ সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় অভাবনীয় এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন তিনি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা চলে যান ভারতে।

এরপর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আন্দোলন আর বিক্ষোভের মুখে পড়েন মো. সাহাবুদ্দিন। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তার জন্য পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হয়ে এসেছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়াদের পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপ্রধান। তার পদত্যাগের কারণ নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।