× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রুবেল রহমান

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ১২:৪২ এএম

ক্ষোভ-অসন্তোষের মুখে ‘রিভিউ’ হচ্ছে তালিকা

রুবেল রহমান

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ১২:৪২ এএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার বেশ আগেই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে যে চমক দেখিয়েছে বিএনপি; কিন্তু বিভিন্ন স্থানে মনোনয়ন বঞ্চিতদের বিদ্রোহ এবং বিক্ষোভে দলটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ঘোষিত ২৩৭ প্রার্থীর বিপরীতে অনেক আসনেই সংক্ষুব্ধ বঞ্চিতরা  মাঠে নেমেছেন। কোথাও বিক্ষোভ, কোথাও মশাল মিছিল কোথাও বা প্রার্থীর বিপরীতে জোট করছেন মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক প্রার্থী। দলটির সিনিয়র নেতারা বলছেন, আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠের অবস্থা জানার চেষ্টা করছে বিএনপি।

এতে করে কী চ্যালেঞ্জ আসতে পারে সেসব মোকাবিলার কৌশল ঠিক করতেই এমন আয়োজন। তবে অনেক আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের বিক্ষোভ আর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রিভিউ হচ্ছে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায়। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলে ক্ষোভ-অসন্তোষের মুখে পরিবর্তন আসতে পারে আন্তত ২৫-৩০টি আসনের প্রার্থিতায়। ঘোষিত ২৩৭ জনের তালিকায় যেসব হেভিওয়েট সিনিয়র নেতার নাম আসেনি, তাদের মধ্য থেকে নতুন করে যুক্ত করা হতে পারে ১০ থেকে ১৫ জনের নাম।

দলীয় তালিকা ঘোষণার পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠের কর্মকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি। বিশেষ করে মনোনয়নবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘোষিত প্রার্থীদের আচরণের বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তৃণমূলে ঐক্য গঠনের উদ্যোগে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যেও ঘোষিত আসনগুলোর মধ্যে অন্তত এক-পঞ্চমাংশ আসনে তীব্র ক্ষোভ ও বিরোধ দেখা গেছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দলের দায়িত্বশীল নেতাদের তদন্তে জানা গেছে, এসব আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

তাদের মতে, প্রার্থী নির্বাচন পুনর্মূল্যায়ন করা না হলে কয়েকজন বঞ্চিত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। নারায়ণগঞ্জ-১ ছাড়া সব আসনেই বিদ্রোহ চরমে। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এখনো ফাঁকা। ধারণা করা হচ্ছে, জোটের শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামকে দেওয়া হতে পারে এই আসন। তবে এই আসনে বিএনপির মনোনয়রপ্রত্যাশীরা বলছেন, জোটকে দিলে এই আসন হারাবে বিএনপি। বিএনপির ৩ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা। তারা মনে করেন, বিএনপির ভোট ৩ ভাগ হলে তাতে করে আসনটিতে সহজেই জয় লাভ করবে জামায়াত। এদিকে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মাঠের ত্যাগী নেতারা দলের মনোয়নয়ন না পাওয়ায় মাদারীপুর, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রূপগঞ্জ ও ঝালকাঠিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষে বিভাজন দেখা দিয়েছে।

এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও সমমনা দলের নেতাদের মধ্য থেকেও যোগ হতে পারে কমপক্ষে ২০টি নাম। ফলে ঘোষিত তালিকা থেকেও বাদ যাবেন বেশ কিছু প্রার্থী। নির্বাচন সামনে রেখে ৩ নভেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে দলীয় প্রার্থীর সম্ভাব্য একটি তালিকা প্রকাশ করেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, এটি একটি সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা। চূড়ান্ত কোনো তালিকা নয়। এ তালিকার যেকোনো নাম কিংবা আসন যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। দলের নীতিনির্ধারণী একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সাম্প্রতিক ঘোষিত তালিকায় দলটির অনেক হেভিওয়েট ও আলোচিত নেতার নাম নেই। এর মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির ৪ সদস্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আসলাম চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, হুমায়ুন কবির, সাবেক এমপি ও ডাকসুর সাবেক এজিএস নাজিমউদ্দীন আলম, সাবেক এমপি রুমিন ফারহানা, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাই এবং ঝালকাঠিতে বরিশাল বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু। এ ছাড়া রয়েছেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও সমমনা দলের নেতারা। সব মিলে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব ওই মনোনয়ন তালিকার অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি আসনে পরিবর্তন বা সংশোধন আনতে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। যারা মনোনয়ন পেয়ে মাঠে আছেন তাদের কীভাবে ম্যানেজ করা হবে; অন্যদিকে যারা পুনর্বিবেচনায় মনোনয়ন পাবেন তারা মাঠ কীভাবে সামলাবেন- সেসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে দলের নীতিনির্ধারণী মহলে।

বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর অনেক আসনে মনোনয়ন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। কিন্তু সাংগঠনিক শাস্তির ভয়ে মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা প্রকাশ্যে কঠোর কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও ভেতরে ভেতরে বঞ্চনার দুঃখ-বেদনা এবং ক্ষোভ-বিক্ষোভে ফুঁসছেন। ইতিমধ্যে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ থেকে কমপক্ষে সাতটি জেলায় বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ, সড়ক-রেলপথ অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, মাদারীপুর, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও মুন্সীগঞ্জ। এর মধ্যে কয়েকটি জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বেশ কজন নেতাকর্মী।

সিনিয়র নেতাদের মতে, এবারের মনোনয়নে বিগত আন্দোলনে ভূমিকা দেখে প্রার্থী হিসেবে তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে দেখে। অন্যদিকে দলের অনেক সিনিয়র নেতার সন্তান, ভাই কিংবা স্ত্রীসহ মনোনয়নপ্রত্যাশী আত্মীয়-স্বজনও এবার মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন। ফলে তাদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, এক পরিবারে একজনের বেশি মনোনয়ন পাবেন না- ‘বিএনপি এমন নীতিতে বিশ্বাসী’ বলে এসব আসনে পরিবারের সদস্যদের প্রার্থী করা হয়নি। যদিও এসব আসনে দলের আরও শক্তিশালী প্রার্থী আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে আসছিলেন। এসব পক্ষ-প্রতিপক্ষের কারণে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে তৃণমূল কর্মীদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ৮৪ জন প্রার্থী একেবারেই নতুন। এর আগে তারা সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। তবে এদের মধ্যে অন্তত ১০ জন রয়েছেন, যাদের বাবা কিংবা মা এর আগে এমপি ছিলেন। এ ছাড়া দুজনের স্বামী এমপি কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। বিএনপির প্রার্থী তালিকায় চারজন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু আছেন। রয়েছেন ১১টি আসনে ৯ জন নারী প্রার্থীও। যদিও প্রার্থী ঘোষণার পরদিনই মাদারীপুর-১ আসনের কামাল জামান মোল্লার নাম ঘোষণা হলেও তা স্থগিত করে দলটি। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন এরই মধ্যে কোনো কোনো প্রার্থী। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় তারা পড়তে পারেন মারাত্মক ঝুঁকিতে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিএনপির মতো বড় দলে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। বেশ কয়েকটি আসনে যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়তে পারেন। হাইকমান্ড সেটি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। যোগ্য প্রার্থী অনেক। মনোনয়ন ঘোষণায় কয়েকটি আসনে ক্ষোভ-বিক্ষোভ হতেই পারে। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। তবে ফাঁকা আসনের সবগুলো শরিকদের জন্য রাখা হবে না। এর মধ্যে দলীয় আসনও রয়েছে। তা ছাড়া যেকোনো প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে, চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার সময়। তাই যারা প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের এখনই বেশি উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু নেই। আর যারা পায়নি তাদের এখনই হতাশ হওয়ার কিছু নেই- পায়নি বলে পাবে না এমন কোনো কথা নয়। বিদ্রোহ করতে গিয়ে এমন কিছু যাতে কেউ না করে, দলের বিরুদ্ধে চলে যায়। তাতে করে শৃঙ্খলা ভঙ্গ হলে তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে দল ব্যবস্থা নিতেও পারে। তা ছাড়া যারা মনোনয়ন পায়নি তাদের অন্য জায়গায় ব্যবস্থা করা হবে। যেসব এলাকায় সিটি কর্পোরেশন কিংবা পৌরসভা আছে সেখানেও তো প্রার্থী লাগবে। সেখানে তাদের দেওয়া হবে।

এদিকে বিএনপি দায়িত্বশীল নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, দলীয় কোন্দল মেটাতে না পারলেও বিএনপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ শরিকদের আসনবণ্টন। যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, জাতীয় জোটের নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদা কিশোরগঞ্জ-৫, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক চট্টগ্রাম-১৪, দলটির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭, জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার পিরোজপুর-১, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব লক্ষ্মীপুর-৪, বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা-১৭, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩, দলটির মহাসচিব রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২, এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান ঝালকাঠি-১, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের জুনায়েদ আল হাবিব ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এবং গণফোরাম ও গণঅধিকার পরিষদে রাজনীতি করার পর এখন কোনো দলে না থাকা ড. রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। যদিও এসব আসনে এখনো কারো নাম ঘোষণা করেনি বিএনপি। তবে উল্লিখিত আসনে জোটের প্রার্থীরা যে মনোনয়ন পাবেন, তা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে মনোনয়ন পেতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন বিএনপির প্রার্থীরা।

Link copied!